প্রিয় ঝিনাইদহ
শৈলকুপায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক চুল কাটানোকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি, ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবক
উচ্চকন্ঠ 10-Jul-2026 15
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক চুল কাটানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির যুক্তি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একটি শ্রেণিকক্ষে ডেকে নেন। পরে পাশের বাজার থেকে একজন নাপিত এনে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতি ও হট্টগোলে রূপ নেয়।
ভুক্তভোগী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিন হোসেন বলেন, আমাদের কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী সাকিন হোসেন বলেন, পাশের বাজার থেকে নাপিত ডেকে এনে আমাদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির যুক্তি জানান, গত বুধবার (৮ জুলাই) অভিভাবকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এলোমেলো চুল রাখা শিক্ষার্থীদের চুল পরিপাটি করে কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন অসংগতিপূর্ণ লেখা সম্বলিত মাস্ক ব্যবহার বন্ধ করারও সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, “সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এটি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও ভালো পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।”
হাতাহাতির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, একজন অভিভাবকের আচরণের কারণেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুজ্জামান হিরোক বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা মোটেও কাম্য ছিল না। সভাপতি মহোদয় ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই উদ্যোগটি নিয়েছিলেন। বর্তমানে সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন বিষয়টি জেনেছি এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনগতভাবে কোনো শিক্ষার্থীর চুল জোরপূর্বক কেটে দেওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি এবং কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মর্যাদা, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
office@ukantho.com