প্রিয় ঝিনাইদহ
হাসপাতাল নাকি মাদক কারবারিদের নিরাপদ ঘাঁটি?
উচ্চকন্ঠ 31-Dec-2025 68
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: হাসপাতাল নাকি মাদক কারবারিদের নিরাপদ ঘাঁটি? চিকিৎসাসেবার জন্য যেখানে মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে, সেই হাসপাতালই এখন মাদক কারবারিদের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হচ্ছে। এমন ঘটনা প্রতিনিয়িত ঘটছে। ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশে প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা, যা জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান ঘটবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রশাসনিক অবস্থার দুর্বলতার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ হাসপাতালে কোনো আনসার বা নিরাপত্তাকর্মী নেই। হাসপাতালের কতিপয় অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে চলে মাদকের কারবার। ফলে হাসপাতাল এলাকা হয়ে উঠছে মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা থাকে বেশি। হাসপাতাল গেটের পাশে, বহির্বিভাগের আশপাশ, এমনকি হাসপাতালের পেছনের অংশে বসে মাদক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। রোগীর স্বজন সেজে কিংবা ভিজিটরের ছদ্মবেশে কারবারিরা সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়ছে হাসপাতালে। এমনকি হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাবেও মাদক সেবন ও কেনাবেচা হচ্ছে ।
একাধিক রোগীর স্বজন জানান, কিশোর ও তরুণদের লক্ষ্য করেই মাদক কারবারিরা সক্রিয়।হাসপাতালের কোর্য়াটারের পাশে প্রকাশ্যে করা হয় লেনদেন।
সূত্র জানায়, হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব সহকারী আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন হাসপাতাল এলাকায় চলে আসছে মাদকের কারবার। বিকেলের পর থেকে উঠতি বয়সী তরুণেরা মাদকের জন্য ভীড় জমায় হাসপাতালের ভেতরের বিভিন্ন এলাকায়।
সন্ধ্যার পর কোর্য়াটারের পেছনে প্রকাশ্যে চলে কেনাবেচা। অনেক সময় প্রভাবশালীরা গিয়ে হাসপাতালের প্যাথলজী ল্যাবের মধ্যে মাদকসেবন করে নির্বিঘ্নে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আবুল কালামের নেতৃত্বে হাসপাতালের মধ্যে মাদক ব্যবসা চলছে। তাঁর ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে পারে না। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় প্রতিনিয়িত চলছে মাদকের কারবার। এ কারণে রাতের বেলায় রোগী ও স্বজনেরা ভয়ের মধ্যে থাকে।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি অনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের মধ্যে মাদকের কারবার এটা সমাজের জন্য সুখকর নয়। এর সঙ্গে ওই হাসপাতালের যাঁরা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাসপাতাল এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে। নইলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হবে।’
হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এ ধরণের কয়েকটি ঘটনা শোনার পর গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালকে মাদকমুক্ত রাখতে আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। আশা করছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় হাসপাতাল এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার
করা হবে।’
এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। তবে হাসপাতাল প্রশাসন থেকে
মাদক কারবারের বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়েছে। আমরা হাসপাতাল এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছি।’তিনি আরো বলেন, ‘শিগগিরই হাসপাতাল এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে। আশা করছি শুধু ওই এলাকায় নয় পুরো হরিণাকুন্ডু উপজেলাকে আমরা
মাদকমুক্ত করবো।
office@ukantho.com