প্রিয় ঝিনাইদহ
চোঁখে দেখেন না হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার!
উচ্চকন্ঠ 19-Jun-2025 43
বসির আহম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: নিজে চোঁখে দেখেন না। মুমুর্ষ রোগী নিয়ে পড়েন সড়ক দুর্ঘটনায়। ক্ষতি সাধন করেছেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এ ঘটনায় ১৩ বার শোকজ ও কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তারপরও মেডিকেল বোর্ডে অযোগ্য ঘোষিত সেই ড্রাইভার সরকারি হাসপাতালের গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রশান ফুসে উঠেছে ড্রাইভার বকুলের খুটোর জোর কোথায়? কেনো তাকে চাকরী থেকে বাধ্যতামুলক অবসর প্রদান করা হচ্ছে না?
ভাগ্যবান এই এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের নাম বকুল মিয়া। তিনি ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ ও শৈলকুপার সরকারিনহাসপাতালে বিভিন্ন সময় ড্রাইভার পদে চাকরী করলেও দায়িত্ব পালন করেন তার ছেলে মিল্টন ও মিলন।
এ নিয়ে ড্রাইভার বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষি সাব্যস্ত হলেও ফ্যাসিষ্ট আ’লীগ জামানায় তার শাস্তি হয়নি। বরং এখনো আ’লীগ পরিচয়ে দাপটের সঙ্গেই চাকরী করে স্বাস্থ্য বিভাগে ছড়ি ঘুরিয়ে যাচ্ছেন। তার পিতা আব্দুল জলিল মিয়া এক সময় শৈলকুপা উপজেলা আ’লীগের পদে ছিলেন।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রাশেদ আল মামুন তার দপ্তরের ২০/২৩ নং স্মারকে ড্রাইভার বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে নিজে এ্যামবুলেন্স না চালিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে চালানোর অভিযোগ এনে চিঠি দেন।
২০২১ সালে শৈলকুপা হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সটি আ’লীগ সন্ত্রাসীদের নিয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে আটক হয়। গাড়িটি ড্রাইভার বকুল মিয়ার ছেলে মিল্টন নিয়ে যায়। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর এ্যাম্বুলেন্সটি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশ উদ্ধার করে ফেরৎ পাঠায়।
২০২৪ সালে কালীগঞ্জ হাসপাতালে বদলী করা হলে ড্রাইভার বকুল মিয়া কতৃপক্ষের ছুটি ছাড়াই বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতেন। ওই বছরের ৫ মার্চ ১৭৯ নং স্মারকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আলমগীর হোসেন তাকে শোকজ করেন। কিন্তু তিনি কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল ড্রাইভার বকুল মিয়াকে কালীগঞ্জ হাসপাতালের এ্যস্বুলেন্স রক্ষনাবেক্ষন ও মেরামতের জন্য যশোর পাঠালে তিনি ঝিনাইদহে এসে রাত্রিযাপন করেন। পরবর্তীতে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আলমগীর হোসেন কারণ জিজ্ঞসা করলে ড্রাইভার বকুল অসাদাচারণ করে রুম থেকে বেরিয়ে যান।
এ ঘটনায় ৩২০, ৩১০, ২৩ ও ৭৮১ ও ৬৯৪ নং স্মারকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও প্রদান করা হলেও তিনি চরম ঔদ্ধত্য দেখান। এরপর তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে বদলী করা হয়।
ঝিনাইদহ আড়াই’শ বেড হাসপাতালে ২০২৪ সালের ১০ জুন বদলী হয়ে এসে নিজে এ্যাম্বুলেন্স না চালিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে এ্যাম্বলেন্স চালাতে থাকেন।
বিষয়টি জানতে পেরে ওই বছরের ২৩ জুন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ সৈয়দ রেজাউল ইসলাম খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক বরাবর অবগতি করে পত্র পাঠান। এরপরও ড্রাইভার বকুল নিজে গাড়ি না চালিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে এ্যাম্বলেন্স চালাচ্ছেন।
ঝিনাইদহ আড়াই’শ শয্যা হাসপাতালের দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৫ আগষ্ট হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স কালীগঞ্জ উপজেলার দুলাল মুন্দিয়া নামক স্থানে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এ ঘটনায় ড্রাইভার বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে তিন সদস্য বিশষ্টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে ওই কমিটি স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে ড্রাইভার বকুল মিয়াকে অযোগ্য ঘোষনা করে ৩১ আগষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ গুলশান আরা লিমা, ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ নাঈম সিদ্দিকী ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাজিব চক্রবর্তী ওই তদন্ত প্রতিবেদনে সাক্ষর করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ড্রাইভার বকুল মিয়া বহিরাগতদের দিয়ে গাড়ি চালানোর কথা স্বীকার করে জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় মাঝেমধ্যে তার ছেলে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকায় যান।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগ থাকায় তাকে শৈলকুপায় বদলী করা হয়েছে। এরপরও তিনি যদি নিজে এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভিং না করেন তবে তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
এদিকে ড্রাইভার বকুলকে শৈলকুপায় বদলী করা হলে তিনি বদলী বাতিলের জন্য ঢাকায় দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এছাড়া তার পরিবর্তে যাকে পদায়ন করা হয়েছে তাকেও নানা ভাবে হুমকী ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
office@ukantho.com