জাতীয়
ঝিনাইদহে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অবৈধ গাইড বইয়ের কারখানার সন্ধান!
উচ্চকন্ঠ 17-Mar-2025 43
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অবৈধ গাইড বইয়ের গোপন কারখানার সন্ধান মিলেছে। এই গোপন গোডাউন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নিষিদ্ধ এসব গাইড বই। আর এই অনৈতিক কাজ করে ফুলে ফেপে উঠেছে ফকরুল নামে এক অবৈধ ব্যবসায়ী। প্রতারিত হচ্ছে দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা। বছরের পর বছর প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটনাটি ঘটছে। কিন্তু দেখার কেও নেই!
এদিকে ঝিনাইদহ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক মোছাঃ শাহনাজ ফেরদৌস জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে জড়িতরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। জেলা শহরের পাগলাকানাই মোড়ে আলিশান চারতলা বাড়ির নীচতলায় এই আন্ডারগ্রাউন্ড গোডাউনের অবস্থান। সেখানে হাজার হাজার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ গাইড বই তৈরী করা হচ্ছে। মিরাজ নামে একজন গোডাউন পাহারা দিচ্ছে। তিনি নিজেকে ম্যানেজার বলেও দাবী করেন।
মিরাজ গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইড নোট বই ঢাকা থেকে ছাপানো হয়। তারপর ঝিনাইদহের গোডাউনে বাধায় করে লেবেল লাগানো হয়। দেশের লাইব্রেরী গুলোর চাহিদা মত কুরিয়ার সার্ভিস যোগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
নোট গাইড বা সহায়ক বই প্রকাশ করার বৈধতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ঝিনাইদহ কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক মোছাঃ শাহনাজ ফেরদৌস জানান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোট গাইড, সহায়ক পুস্তক প্রকাশের জন্য দেশের কোন প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি প্রদান করা হয়নি। এ ধরণের কর্মকান্ড বেআইনী শুধু নয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল লক্ষ্যর প্রতি এক ধরণের হুমকি। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।
সরজমিন তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে মসজিদে সাদাতিয়ার সামনে চারতলা “ব্যাতিক্রম” ভবনের মালিক সদর উপজেলার বেড়াশুলা গ্রামের মোঃ ফকরুল ইসলাম। সেখানে আন্ডারগ্রাউন্ড রুমে হাজার হাজার কপি গাইড বই মজুদ রয়েছে। অবৈধ এসব বই বিক্রির টাকায় আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন ফকরুল। অল্পদিনে ফুলে ফেপে ওঠা ফকরুল ইসলাম এক সময় আত্ম-বিশ্বাস নামের একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। এনজিওর চাকরি ছেড়ে তিনি নোট বইয়ের ব্যবসা শুরু করেন। ঢাকা থেকে ছাপা শুরু হয় নোট বই আর গাইড। ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়া হয় গোটা দেশে।
ঝিনাইদহ পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির সংগঠনিক আহবায়ক ইনজামুল হক জানান, বোর্ডের বই ব্যাতিত নোট গাইড ছাপানো ও বিক্রির বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নোট বা গাইড সহায়ক বই বিক্রির জন্য কোন নির্দেশনা নেই। ফকরুল ইসলাম কি ভাবে নোট গাইড বা সহায়ক বই ছাপাচ্ছে এবং বিক্রি করছে তা তাদের অজানা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝিনাইদহের এক পুস্তক ব্যবসায়ী জানান, শুধু ফকরুল নয় সারা দেশে নোট গাইড বিক্রি জন্য শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। তারা স্কুল, কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ে কোটি কোটি টাকা লগ্নিও করছে।
অভিযুক্ত ফকরুল ইসলাম দাবি করেন বই গুলোর পান্ডুলিপি তিনি নিজে তৈরী করেন এবং ঢাকার প্রেস থেকে ছাপানো হয়। তার দাবি ট্রেড লাইসেন্স আর পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির কার্ডের ক্ষমতা বলে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নোট গাইড প্রকাশ করে আসছেন।
office@ukantho.com