রাজনীতি
ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে, আভাস প্রধান উপদেষ্টার
উচ্চকন্ঠ 06-Mar-2025 55
এফএনএস: বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা এ আভাস দেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার যদি দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়; তবে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে পারব। যদি সংস্কারে দীর্ঘ সময়ের লেগে যায় তবে আরো কিছু মাস প্রয়োজন হতে পারে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদেরকে (আওয়ামী লীগ) সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নির্বাচন করতে চায় কি না, আমি তাদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ড. ইউনূস আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে, কে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশে গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব পেয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আমার কোনও ধারণাই ছিল না যে আমি সরকারের নেতৃত্ব দেব। সরকার পরিচালনার কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার নেই। তবে সব স্থিতিশীল হওয়ার পর আমরা সবকিছু সংগঠিত করতে শুরু করি। দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এখন অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। ড. ইউনূস বলেছেন, অর্থনীতি, শান্তি ও শৃঙ্খলা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অর্থনীতির অবস্থা এতটা ভয়াবহ, যেন এর ওপর দিয়ে ১৬ বছর ধরে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। তবে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস হতে চললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন না সাধারণ মানুষ। উল্টো তাদের ধারণা, নিরাপত্তা বরং কমেছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. ইউনূস বলেন, ভালো পরিস্থিতি তো আসলে আপেক্ষিক বিষয়। গত বছরের একই সময় কালের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখবেন, পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। এখন যা হচ্ছে, সেটা অন্য সময়ের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। দেশের বর্তমান অস্থিতিশীলতার জন্য সাবেক সরকারকে দায়ী করেছেন ড. ইউনূস। বাংলাদেশে এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়ের একটি হলো নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ। ড ইউনূস বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা সামনের বছর মার্চ নাগাদ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। যদি সংস্কার কাজ যথাযথভাবে শেষ হয়, তবে ডিসেম্বরেই সেটা করা যেতে পারে। নইলে কিছুদিন বিলম্ব হবে। সাবেক সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, প্রশ্ন করলে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা এই সিদ্ধান্ত তাদের। আর কে অংশগ্রহণ করতে পারবে সেটা যাচাই করে দেখবে নির্বাচন কমিশন। আমার তো এখানে কিছু বলার নেই। এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষত, গত ৫ ফেব্রæয়ারি শেখ হাসিনার পৈতৃক বাসভবন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত ধানমÐি ৩২ নম্বরের বাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার এসব নৃশংসতাকে ন্যায্যতা দিচ্ছে। তবে মুহূর্তমাত্র বিলম্ব না করে এই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে ড. ইউনূস বলেছেন, দেশে আইন আছে, আদালত আছে। তারা অনিরাপদ বোধ করলে সেখানে যাক। বিবিসির কাছে গিয়ে অভিযোগ করার কী আছে! তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ করে দেখুক আইন নিজস্ব গতিতে চলছে কিনা।
office@ukantho.com