প্রিয় ঝিনাইদহ
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সাত দফা এক দফা হবে- ঝিনাইদহে ডা.শফিকুর রহমান
উচ্চকন্ঠ 02-Nov-2026 10
বসির আহমেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সরকারকে সময় থাকতে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার ভালোয় ভালোয় সাত দফা দাবি মেনে না নিলে তা এক দফায় রূপ নেবে। প্রয়োজনে দাবি আদায়ে ঢাকায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি পরিষ্কার। আমরা সাত দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। এ দাবি কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়। এ দাবি ১৮ কোটি মানুষের। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। এর একটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। অথচ সেই গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণকে অপমান করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংসদে যাইনি। সরকার গণভোট অস্বীকার করলে সরকারও নেই, বিরোধীদলও নেই। তারা এবং আমরা বলেছিলাম, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে এবং আমরা নির্বাচিত হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার করব। কিন্তু সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন না করে ১৪০০ শহীদ ও জনগণকে অপমান করছে। আমাদের দাবি স্পষ্ট—গণভোটের গণরায় শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা কথা দিচ্ছি, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব।
জামায়াতের আমির বলেন, জনগণের শান্তি কেড়ে নেওয়া হলে এবং তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে সাত দফা এক দফায় রূপ নেবে। সরকার দাবি মেনে নিলে লংমার্চের প্রয়োজন হবে না। অন্যথায় দাবি আদায়ে জনগণকে ঢাকার কর্মসূচিতে ডাকা হবে। লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে, ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়।
জনসভায় এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, সরকার আসে, সরকার যায়। তারা চেয়েছিলেন দেশে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে, যেখানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণ থাকবে না। করপোরেশনগুলোতে দ্বিতীয় শ্রেণি পাস ব্যক্তিদের বসানো হবে না। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর করপোরেশন ও সরকারি অফিসগুলো দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বাকশাল কায়েম করেছে। অদক্ষ ও অশিক্ষিতরা নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেছেন। জাতিকে ভুল পথ থেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতেই তারা জনগণের কাছে এসেছেন। এ সময় তিনি মানুষের ওপর জুলুম না করার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বক্কর এমপির সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি। ঝিনাইদহ ৩ আসনের এমপি প্রফেসর মতিয়ার রহমান, চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের এমপি রুহুল আমিন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি মাসুদ পারভেজ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) দলীয় মূখ্যপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ডাকসুর জিএস এস. এম ফরহাদ প্রমূখ।
ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে পথসভা শেষে লংমার্চের বহর কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লংমার্চের বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েতস্থলে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ১১ দলের নেতাকর্মীরা লংমার্চের বহরকে অভিবাদন জানান।
office@ukantho.com