অপরাধ
বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ, দুদিন পর হাত-পা বাঁধা লাশ মিললো পাটক্ষেতে
উচ্চকন্ঠ 19-Jul-2026 45
এফএনএস: ফরিদপুর সদরে হাত-পা বাঁধা, কীটনাশক খাওয়ানো অবস্থায় এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ব্যবসায়ীর মুক্তির জন্য তার পরিবারের কাছে কয়েক দফায় ৩০ হাজার টাকা চেয়েছিল অপহরণকারীরা। টাকা দিতে না পারায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। গতকাল শনিবার সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের রোকমান খার ডাঙ্গী গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই ব্যবসায়ীর নাম ইউসুফ ফকির (৪৫)। তিনি সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকমান খার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা সেকেন ফকিরের ছেলে। দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন এবং পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসা করতেন। নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকালে তার শরীরটা কিছুটা খারাপ লাগছিল। তিনি তার স্ত্রীকে বলেন, মমিনখার হাট বাজারে গিয়ে একটা ফার্মেসি থেকে ডায়াবেটিস মাপাবেন। এই কথা বলে বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। বাজারের কাজ শেষ করে সন্ধ্যার দিকে একটি ইজিবাইকে নিজের বাড়ির সামনে এসে নামেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। নিহতের শ^শুর আজিজ খান বলেন, যে ইজিবাইকে চড়ে বাজার থেকে বাড়িতে এসেছিল, সেই ইজিবাইক চালক আমাদের বলেছে, সে বাড়ির সামনে তাকে নামিয়ে দিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকবার ইউসুফের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে কেটে দেয়। এরপর রাত ৯টার দিকে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।’
এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা সাইফুল ফকির বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন। নিহতের শ^শুর আজিজ খান বলেন, শুক্রবার বিকালে প্রথমে আমার জামাতার মোবাইল নম্বর থেকে আমার মেয়ের নম্বরে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এই টাকা দিলে আমার জামাতাকে অক্ষত ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিল অপহরণকারীরা। পরে তার নম্বরটি বন্ধ করে একটি আইপি নম্বর থেকে দুবার কল দিয়ে একই দাবি করা হয়। আমরা তার ঠিকানা জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি ফোন কেটে দেয়।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আলী মদ্দীন ফকির বলেন, ‘আজ ভোর ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি পাট কাটতে যান। পরে ইউসুফের বাড়ির আনুমানিক ৩০০ মিটার দূরে পাটক্ষেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার মুখ দিয়ে কীটনাশকের বিষাক্ত গন্ধ বের হচ্ছিল। পাশেই একটি কীটনাশকের বোতলও ছিল। তাতে বোঝা যায় ভোরের কিছুটা আগেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি ময়নাতদন্তের জন্য। পাশাপাশি নানা বিষয় মাথায় রেখে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। যারা এ ঘটনার পেছনে আছে বা কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সেই ব্যাপারটি আমরা খুব দ্রুত রহস্য জানাতে পারবো।’
office@ukantho.com