জাতীয়
রাঙামাটির বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের
উচ্চকন্ঠ 13-Jul-2026 34
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত পার্বত্যাঞ্চলের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে ৫ টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি জেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষ নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্গত মানুষের পুনর্বাসনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, বিধ্বস্ত সড়ক ও সেতুসহ জনসাধারণের অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে
আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখানে অবস্থানরত মানুষ নিয়মিত খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন। পাশাপাশি পুষ্টিকর ও বিকল্প খাদ্য সরবরাহ আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলার বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে কোথায় কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের ফাঁকা বাড়িঘরে চুরি, লুটপাট বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব (পিপিএম), সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
office@ukantho.com