প্রিয় ঝিনাইদহ
মহেশপুরের ফতেপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সংস্কারকাজে অনিয়ম:নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
উচ্চকন্ঠ 27-Jun-2026 24
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের (ইউএইচ অ্যান্ড এফডব্লিউসি) সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে| স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজে নির্ধারিত সিডিউল অনুসরণ করা হচ্ছে না এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে|
জানা গেছে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এইচইডি/জেএইচডি/জিওবি-এমইএফডব্লিউ/২০২৫-২৬/০৫ প্যাকেজের (টেন্ডার আইডি-১১৮২৬৫৩) কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঝিনাইদহের চাঁদপাড়ার মেসার্স আলামিন কনস্ট্রাকশন|
প্রকল্পের সাইনবোর্ড অনুযায়ী, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ক্লিনিক ও কোয়ার্টারের রুটিন ও পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের আওতায় রয়েছে ২৭৩ বর্গমিটার প্লাস্টার, ৮.৯৬ ঘনমিটার আরসিসি প্যাড নির্মাণ, চারটি দরজার পাল্লা পরিবর্তন, ৫১১.৮৩ বর্গমিটার ওয়েদার কোট, ২২৬.৪৮ বর্গমিটার এনামেল পেইন্ট, ৯১৪.৮৯ বর্গমিটার প্লাস্টিক পেইন্ট, দরজা-জানালা মেরামত, স্যানিটারি ফিটিংস পরিবর্তন, সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন, ˆবদ্যুতিক ওয়্যারিং, ফ্যান, টিউবলাইট ও সুইচ-সকেট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ|
তবে সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সম্পূর্ণ সংস্কারের পরিবর্তে দায়সারাভাবে আংশিক প্লাস্টারের কাজ করা হয়েছে| এছাড়া যেখানে প্লাস্টিক পেইন্ট ব্যবহারের কথা, সেখানে ডিস্টেম্পার রং ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে|
স্থানীয়দের দাবি, দরজা-জানালা, স্যানিটারি ফিটিংসসহ অন্যান্য সংস্কারকাজেও নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে না| তাদের মতে, সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজে এমন অনিয়ম ভবিষ্যতে ভবনের স্থায়িত্ব ও সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে|
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী এস এম শামীম হোসাইন বলেন, "প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ও সুবিধার বিষয় বিবেচনা করে কিছু কাজের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে|"
তবে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি প্রকল্পের নির্ধারিত সিডিউল ও নকশার বাইরে কোনো পরিবর্তন আনা হলে তা যথাযথ অনুমোদন ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা উচিত|
এদিকে মহেশপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, "কাজের গুণগত মান নিয়ে কিছু অসঙ্গতি আমাদের পর্যবেক্ষণে এসেছে|"
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি| এতে কাজের ¯^চ্ছতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে|
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে| পাশাপাশি কাজ শেষ হওয়ার আগে প্রতিটি ধাপ যাচাই করে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা|
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সেবার পরিবেশ আরও উন্নত হবে|
office@ukantho.com