প্রিয় ঝিনাইদহ
বিএনপি নেতা রাশেদ খানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ গান: প্রতিবাদ করায় যুব অধিকার পরিষদ নেতাকে অপহরণ-প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
উচ্চকন্ঠ 25-Jun-2026 47
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মো. রাশেদ খানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর গান প্রচার এবং এর প্রতিবাদ করায় ঝিনাইদহ জেলা যুব অধিকার পরিষদের এক নেতাকে সপরিবারে অপহরণ, গুম ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিশন আলী (২৮) গত ২৪ জুন ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ শহরের মডার্ন মোড় এলাকার বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন (৩০) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. রাশেদ খানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ভাষা, মানহানিকর মন্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্বলিত একটি গান তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। গত ২৪ জুন সকাল আনুমানিক ১১টা ৫১ মিনিটে বিষয়টি মিশন আলীর নজরে আসে।
পরে তিনি দলের সাবেক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাতে অভিযুক্ত জয়নুল আবেদীনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়নুল আবেদীন বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ না করে কৌশলে ফোনালাপটি রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে সেই কথোপকথন বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে মিশন আলীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফোনালাপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা নম্বর থেকে মিশন আলীর ব্যক্তিগত মোবাইলে ধারাবাহিকভাবে কল আসতে শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কলের মাধ্যমে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের অপহরণ, গুম ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগপত্রে প্রায় অর্ধশতাধিক মোবাইল নম্বরের তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মিশন আলী অভিযোগ করেন, “আমি শুধু একটি মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণার প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু এরপর থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর প্রচারণা এবং এর প্রতিবাদ করায় এক যুবনেতাকে সপরিবারে গুম-খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরিবেশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক। তারা এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
office@ukantho.com