প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে ভেঙে পড়া সেতুতে বন্ধ যোগাযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় পারাপার
উচ্চকন্ঠ 26-Apr-2026 51
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ও কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের একটি প্রায় ৪৫ বছর পুরনো সেতু ভেঙে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন চলাচল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করছেন হাজারো মানুষ।
জানা গেছে, বিষয়খালী জিসি-নগরবাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালের ওপর নির্মিত সেতুটি গত বছরের প্রবল বর্ষণে পানির তোড়ে ভেঙে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও সেতুটি পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পাটাতন ভেঙে খালের মাঝখানে পড়ে আছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে সেখানে অস্থায়ীভাবে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মকলেচুর রহমান বলেন, প্রায় ৯ মাস আগে সেতুটি ভেঙে গেছে। আমরা বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাইনি। কবে সেতু হবে, কেউ বলতে পারে না।
স্কুল শিক্ষার্থী সজিব হোসেন জানায়, আগে আমরা সহজেই সেতু পার হয়ে স্কুলে যেতাম। এখন বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে ভয় লাগে। সাঁকোটিও ভেঙে গেলে স্কুলে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
পরিবহন চালকরাও পড়েছেন বিপাকে। ইজিবাইক চালক লাল্টু মিয়া ও বাবুল মন্ডল জানান, সেতু ভেঙে যাওয়ায় তাদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আয়-রোজগারে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
কৃষক হোসেন আলী বলেন, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাকচালক জালাল হোসেন জানান, আগে এই সড়ক ব্যবহার করে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে সহজে পণ্য পরিবহন করা যেত। এখন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গিয়ে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে দুটি সেতু ছিল, যার মধ্যে একটি ইতোমধ্যে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ভেঙে পড়া সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য পৃথক দুটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
office@ukantho.com