প্রিয় ঝিনাইদহ
মালয়েশিয়ায় নির্মম হত্যাকান্ড; কালীগঞ্জের নজরুল ও কোহিনুরের মরদেহ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা
উচ্চকন্ঠ 19-Apr-2026 202
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবিকার তাগিদে প্রবাসে গিয়ে স্বপ্ন গড়েছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার যুবক নজরুল ইসলাম। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে নজরুল ইসলাম ও তার সঙ্গী কোহিনুর বেগমকে। হত্যার পর তাদের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান নজরুল ইসলাম ২০১৮ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি গড়ে তোলেন গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন প্রাণী পালনের একটি খামার। তার এই সাফল্যই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় বলে ধারণা পরিবারের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার শেনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিমের মেয়ে কোহিনুর বেগমের সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে নজরুলের অসুস্থতার খবর পেয়ে কোহিনুর মালয়েশিয়ায় যান। তারা নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন।
কিন্তু গত ১৪ এপ্রিল রাতে দুর্বৃত্তরা তাদের উপর হামলা চালায়। প্রথমে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, নজরুল আমাদের জানিয়েছিল, তার ব্যবসায়িক পার্টনারের সঙ্গে সমস্যা চলছে। কয়েকবার তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে। আমরা তাকে দেশে ফিরে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু আসার আগেই তাকে হত্যা করা হলো।
পরিবার আরও জানায়, দেশে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে নজরুল তার খামারের গরু-ছাগল বিক্রি করছিলেন। ইতোমধ্যে প্রায় চার লাখ টাকার পশু বিক্রি করেছিলেন। খুব শিগগিরই দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার।
নিহত নজরুলের বোন শাপলা খাতুন বলেন, আমার ভাই অনেক কষ্ট করে নিজের জীবন গড়েছিল। সে আমাদের বলত আর কষ্ট করতে হবে না। কিন্তু এভাবে তাকে হারাতে হবে, তা কখনো ভাবিনি। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
নজরুলের বাবা মোতালেব হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে আর তার সঙ্গীকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলেছে। আমি শেষবারের মতো আমার ছেলের মুখ দেখতে চাই। সরকার যেন তাদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে এবং খুনিদের বিচার নিশ্চিত করে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। যেহেতু ঘটনাটি বিদেশে ঘটেছে, তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
প্রবাসে স্বপ্নের সন্ধানে গিয়ে নজরুল ও কোহিনুরের এই মর্মান্তিক মৃত্যু এখন শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের একটাই দাবি-দোষীদের বিচার এবং প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ।
office@ukantho.com