প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্থ জনজীবন, মুখে কুলুপ এটেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা
উচ্চকন্ঠ 18-Apr-2026 46
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ জেলায় হঠাৎ করে তীব্র লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জেলার সর্বস্তরের মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন।
প্রতি বছরের মতো গ্রীষ্মের শুরুতেই লোডশেডিং বাড়ার প্রবণতা থাকলেও চলতি বছর এপ্রিলের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। তবে গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। শহরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও কোথাও স্বস্তি নেই শহর ও গ্রাম দুই জায়গাতেই একই চিত্র বিরাজ করছে।
অতিরিক্ত গরমের মধ্যে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনজীবনকে করে তুলেছে অসহনীয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “দিনে কাজ করতে পারি না, রাতে ঘুমাতে পারি না। এই গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট বাচ্চা আর বয়স্কদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট মসজিদের খাদেম কারী মোহাম্মদ বশির উল্লাহ জানান, “বিদ্যুৎ না থাকায় ধর্মীয় কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে এবং মুসল্লিরা চরম অস্বস্তিতে পড়ছেন।”
নিয়মিত মুসল্লি আলম মুন্সী বলেন, “গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে উঠছে।”
কম্পিউটার ব্যবসায়ী সাকিব হোসেন জানান, “বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তার ব্যবসা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।”
আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে দোকান ঠিকমতো চালাতে পারছি না। ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি।”
কলেজ শিক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন বলেন, “পরীক্ষা সামনে, কিন্তু পড়াশোনার পরিবেশ নেই। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকভাবে পড়তে পারছি না, আবার ঘুমও ঠিকমতো হচ্ছে না।”
গ্রামাঞ্চলের গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, “দিনে রান্না করতে কষ্ট হয়, রাতে গরমে বাচ্চারা কাঁদে। বিদ্যুৎ না থাকলে জীবনটাই থেমে যায় মনে হয়।”
সদর উপজেলার গভীর নলকূপের মালিক জিয়াউর রহমান জানান, “বিদ্যুৎ না থাকায় ধানের সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগÑবিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না। ফলে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন না হলে জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
office@ukantho.com