অপরাধ
চুরির অপবাদে কিশোরকে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন
উচ্চকন্ঠ 13-Apr-2026 56
এফএনএস: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চুরির অপবাদে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে। স্থানীয়দের দাবি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গত রোববার দিবাগত রাতে এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে স্থানীয় ইয়াসিন ও শাকিল তাকে ঘর থেকে বের করে বাড়ির পাশে একটি গাছের বেঁধে নির্মমভাবে পেটায়। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চর চান্দড়ায় চুরির অপবাদে মৃত মোছেন শেখের ছেলে মো. হোসাইন নামে ১৫ বছরের এক কিশোরকে নিজ বাড়ির পাশে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন। ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটি বেদম প্রহারে বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়লেও ‘অভিনয় করছে’ বলে আরও বেশি করে নির্যাতন করা হয় তার ওপর। পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফিরোজ মোল্যার নেতৃত্বে ওই কিশোরের ওপর অমানবিক নির্যাতন করেন গ্রামটির মো. সাবের হোসেনের ছেলে ইয়াছিন ও আকরাম শেখের ছেলে শাকিল। সারাদিন দফায় দফায় তার ওপর নির্যাতন করা হয়। স্থানীয়রা জানান, নির্যাতনের শিকার কিশোর হোসাইন ঢাকায় একটি ফার্নিচারের কারখানায় কাজ করে, সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি আসে সে। এসময় কারখানাটিতে একটি ড্রিল মেশিন চুরি যায়। সেই চুরির ঘটনায় তাকে চোর অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগী কিশোর হোসাইন বলে, আমি ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পরদিন আমাকে ঘরে আটকে রাখে। পরে গাছে বেঁধে ইয়াছিন ও শাকিল আমাকে মারপিট করে। পুলিশ এলে তারা বলেন, যেহেতু মারধর করা হয়েছে তাহলে আমরা আর কী করবো। ভুক্তভোগী কিশোরের মা বানু বেগম বলেন, আমার ছেলে ঢাকায় থাকে। সে বাড়িতে আসার পর ইয়াছিন, শাকিলসহ তিনজন আমার ছেলেকে মারছে। স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদুল ইসলাম, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ছেলেটিকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। জামা খোলার পর দেখা যায় পিঠে প্রচণ্ড মারপিটের দাগ। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. রাহাত ইসলাম রাসেল বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্যাতিত কিশোর ও এক নির্যাতনকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান তাদের মাঝপথ থেকে ছাড়িয়ে রাখেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. ফিরোজ শেখ বলেন, বিল্লাল নামে একজন আমাকে খবর দিলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেটিকে পুলিশে দিতে বলি। কিন্তু কারো কাছে পুলিশের মোবাইল নম্বর না থাকায় এবং আমি ব্যস্ত থাকায় ওই অবস্থায় রেখে চলে আসি। তবে আমার সামনে মারধর করা হয়নি। পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান বলেন, স্থানীয় মেম্বার আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আমার জিম্মায় আটকদের ছাড়িয়ে রাখি। আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ভিডিও পর্যালোচনা করে রাতেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মো. ম খান বলেন, ভিডিও দেখেছি। ভিডিওটি দেখার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
office@ukantho.com