প্রিয় ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জে ছাত্র ও অভিভাবকদের জিম্মি করে শিক্ষক সমিতির অর্ধকোটি টাকার চাঁদাবাজি: তদন্ত কমিটি গঠন, ফেঁসে যেতে পারে অনেক রাঘব-বোয়াল
উচ্চকন্ঠ 30-Mar-2026 99
নিজস্ব প্রতিবেদক: যে শিক্ষকদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা, সেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই এবার উঠেছে শিক্ষার্থীদের ভুল পথে ঠেলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হচ্ছে নির্দিষ্ট বুকলিস্টের মাধ্যমে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিমকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে ৩৮ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্ত শেষ হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রতিনিধি বা এজেন্টরা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গাইড বইয়ের বাজার তৈরি করছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকদের একাংশ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে এসব গাইড বই কিনতে বাধ্য করছেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কালীগঞ্জ শিক্ষক সমিতির রূপালী ব্যাংকের ৮৪৭ নম্বর হিসাবে প্রায় ২৪ লাখ টাকা জমা দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫২টি এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদরের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই সমিতির অন্তর্ভুক্ত।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি রূপালী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখায় সমিতির হিসাবে ২৪ লাখ টাকা লেনদেনের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। যদিও কালীগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি এই লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। সমিতির সদস্য সচিব আহসান হাবীব এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে দাবি করেছেন।
এদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব গাইড বই শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তাশক্তি ও লেখার দক্ষতা নষ্ট করছে। তারা মনে করেন, গাইড বইয়ের ব্যবহার উন্মুক্ত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে উচ্চমূল্যের গাইড বই নির্ভর পাঠদান শিক্ষকদের মূল দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন স্বর্ণকার জানান, শিক্ষকদের উপঢৌকন দেওয়ার বিষয়টি মূলত এজেন্ট ও কোম্পানির পক্ষ থেকেই করা হয়। বাজার বিস্তারের জন্য এটি একটি প্রচলিত পদ্ধতি, যা এখন অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষকদের সম্মানীর বিনিময়ে গাইড বই কেনার পরামর্শ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গাইড বই চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
office@ukantho.com