অপরাধ
নড়াইলে পিতা-পুত্রসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তারাপুর গ্রাম পুরুষশুণ্য
উচ্চকন্ঠ 24-Feb-2026 66
কাজী আতিকুর রহমান, নড়াইল জেলা প্রতিবেদক: স্বজন হারানো বেদনা নিয়ে শোকাবহ পরিবেশে নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে পিতা-পুত্রসহ হত্যাকান্ডের শিকার চারজনের মধ্যে তিনজনের দাফন শিঙ্গাশোলপুরে এবং তারাপুর গ্রামে একজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।মঙ্গলবার সোয়া ৪টার দিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতিতে নিহত খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ এবং একই দলের ফেরদাউস হোসেনের দাফন তাদের বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দুরে শিঙ্গাশোলপুর কবরস্থানে ও অপর নিহত ওসিকুর ফকিরের দাফন বিকেলে তার পৈত্রিক নিবাস তারাপুর গ্রামের কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে চার হত্যাকান্ডের ঘটনায় তাদের স্বজনদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। খলিল শেখ ও ফেরদাউস হোসেনের স্বজনরা জানান, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়েরের লোকজন অতর্কিতভাবে আমাদের লোকজনের উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ৩জনকে হত্যা করে চলে যায়। নিহত তাহাজ্জত শেখের স্ত্রী সুমী বেগম জানান, সোমবার ভোর রাতে আমরা সেহেরী খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তারাপুর গ্রাম থেকে আসা ও আমাদের গ্রামের প্রতিপক্ষরা মিলে কমপক্ষে ৫০-৫৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে আমার শশুর খলিল শেখ ও স্বামী তাহাজ্জতকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপুর্যপুরিভাবে শরীরের একাধিক স্থানে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এছাড়া আমাদের প্রতিবেশি ও পক্ষের ফেরদাউসকেও একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা ।আমার স্বামীকে মেরে ফেলায় আমার ৩টি সন্তান এতিম হলো।তাহাজ্জতের বোন রিম্পা খানম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার বাবা খলিল শেখ ও ভাইকে প্রতিপক্ষ খায়ের চেয়ারম্যানের লোকজন হত্যা করেছে।আমরা এ হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার চাই।নিহত ফেরদাউসের স্ত্রী রাবেয়া বেগম তার ৪মাস বয়সী মেয়ে রাফসানাকে কোলে নিয়ে কান্নাজড়িতকন্ঠে জানান, আমার পাঁচ সন্তান এতিম হয়ে গেলো।তাদেরকে ভালোবাসা দেয়ার আর কেউ থাকলো না।ফেরদাউসের প্রবাসী ভাই রুবেল শেখ বলেন, আমার নিরীহ ভাইকে যারা হত্যা করেছে তারা আগে থেকেই এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে।তাদের অন্যায় কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তারাপুর গ্রামে পৌঁছে দেখা যায় গ্রামটি পুরুষশূণ্য নিহত ওসিকুর ফকিরের নারী স্বজনরা হাউমাউ করে কাঁদছেন।ওসিকুরের চাচাতো বোন সোহাগী জানান, খলিলের ছেলেরা ও তার ভাই হাবিলের ছেলেরা এলাকায় মারামারি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত।তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে গিয়ে আমার ভাই ওসিকুরসহ বাড়ির নারীদের প্রায়ই খুনজখম ও লুটপাটের হুমকি ধামকি দিতো।আমাদের লোকজন তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভয়ে তটস্থ থাকতো।খলিলসহ ছেলেরা ও তার ভাই হাবিলের ছেলেরা খারাপ প্রকৃতির হওয়ায় তারাপুর গ্রাম ছেড়ে তারা বড়কুলা গ্রামে গিয়ে বসবাস করছে।ওসিকুরের মা মহির নেসা জানান, খলিল ও তার লোকজন আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।তারা হত্যাকান্ড ঘটানোর পরও বাড়িতে অবস্থান করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নড়াইল সদর থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ওলি মিয়া বলেন, নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে সোমবার ভোরে বাবা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ ও র্যাব।হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।আশাকরি দ্রুতই রহস্য উদঘাটিত হবে এবং হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের আটক করা সম্ভবপর হবে।
office@ukantho.com