প্রিয় ঝিনাইদহ
ইতিহাসে এই প্রথম কোন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল ঝিনাইদহবাসী
উচ্চকন্ঠ 17-Feb-2026 55
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্টতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করেছে। বিএনপি সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে বিকেলে শফত গ্রহণ করেছেন ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কৃতী সন্তান সাবেক এটর্নি জেনারেল অ্যাড. মোঃ আসাদুজ্জামান।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোঃ আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৭তম এটর্নি জেনারেল হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে, স্বীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে অংশগ্রহণ করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
তিনি ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার অন্তর্গত বারইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ মোঃ ইসরাইল হোসেন এবং মাতার নাম বেগম রোকেয়া।
মোঃ আসাদুজ্জামানের শিক্ষা জীবন শুরু হয় নিজ জেলা ঝিনাইদহে। তিনি ১৯৮৭ সালে যশোর বোর্ড থেকে এস.এস.সি. এবং ১৯৮৯ সালে এইচ.এস.সি. সম্পন্ন করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সাথে এল.এল.বি. (সম্মান) ও এল.এল.এম. ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতি সচেতন ছিলেন। তিনি মূলত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ একজন আইনজীবী।
১৯৯৫ সালে তিনি আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক তালিকাভুক্ত হন এবং ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের অনুমতি লাভ করেন।
তিনি ১৯৯৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পদ গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে তিনি আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। আইনজীবী হিসেবে তিনি কর্মজীবনের শুরুতে সুপ্রিমকোর্টের তৎকালীন আইনজীবী ও পরবর্তীতে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সঙ্গে কাজ করেছেন।
১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের জুনিয়র হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিনের সাহচর্যে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক প্রতিষ্ঠিত ল-চেম্বারের একজন পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মোঃ আসাদুজ্জামানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের মধ্যে বিভিন্ন উচ্চ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন জটিল আইনি সমস্যার সমাধান উল্লেখযোগ্য।
অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের আইনি পরিসরে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দেশের সচেতন মহল।
এদিকে, সাবেক এটর্নি জেনারেল ও জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা অ্যাড. মোঃ আসাদুজ্জামান এর আইনমন্ত্রী হিসেবে শফত গ্রহণের পর নির্বাচনি এলাকা জন্মস্থান শৈলকূপা সহ সমগ্র ঝিনাইদহ জুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। সচেতনমহলের দাবি, ঝিনাইদহের ইতিহাসে এ-এক অনন্য প্রাপ্তি। এই প্রথম ঝিনাইদহ জেলা কোন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল। বিএনপি সরকার একজন যোগ্য মানুষকে আইনমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন। ঝিনাইদহের শৈলাকুপা সহ জেলা জুড়ে মিষ্টি বিতরণ চলছে।
office@ukantho.com