প্রিয় ঝিনাইদহ
তারেক রহমানের নির্দেশে নেতাকর্মীরা তৎপর, ঝিনাইদহ-৪ এলাকায় ধানের শীষের জয়জয়কার
উচ্চকন্ঠ 04-Feb-2026 99
সম্পাদকীয়: ঝিনাইদহ-৪ এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রবল জোয়ার বইতে শুরু করেছে। এখন কালীগঞ্জের একটি পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়ন এবং ঝিনাইদহ সদরের ৪টি ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের জয়জয়কার। বিএনপির প্রার্থীতা ঘোষণার পর স্থানীয়দের কেউ মনোনয়ন না পাওয়ায় অনেকের মধ্যে ক্ষোভ, দুঃখ, মান অভিমান জেঁকে বসলেও তা ইতিমধ্যে মিলিয়ে গেছে। বিএনপি হাই কমান্ডের নির্দেশে এখন নেতাকর্মীরা ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খাঁনকে সাথে নিয়ে জোরদার নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা যায়, ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপির ৩টি গ্রুপ সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। এরমধ্যে সাবেক ছাত্রনেতা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদের নেতৃত্বে ২০০৭ সাল থেকে একটি গ্রুপ, ২০০৮ সাল থেকে সাবেক এমপি শহীদুজ্জামান বেল্টুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এবং ২০১৮ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ তাদের সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে আসছিলেন। এরমধ্যে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাবেক এমপি শহীদুজ্জামান বেল্টু পুনরায় ২০১৮ নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরাজিত হন। এরপর থেকে ৩টি গ্রুপ পৃথক পৃথকভাবে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। মাঝখানে সাবেক এমপি শহীদুজ্জামান বেল্টুর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী মুর্শিদা জামান বেল্টু তার গ্রুপের হাল ধরেছেন।
২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি হাইকমান্ড ঝিনাইদহ ৪ আসনে হামিদুল ইসলাম হামিদ, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, মুর্শিদা জামান বেল্টুর মধ্যে কাউকেই মনোনয়ন না দেয়ায় তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ¦লে ওঠে। তারা ক্ষোভে, দুঃখে, অভিমানে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেন। উপরোক্ত ৩ নেতা মনোনয়নপত্র ক্রয়ের শেষ দিনে মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেও হামিদুল ইসলাম হামিদ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সম্মান জানিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। মুর্শিদা জামান বেল্টু মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন কিন্তু সাইফুল ইসলাম ফিরোজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করে হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ও হাইকমান্ডের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার অনুসারীদের নিয়ে ভোটযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সম্প্রতি বিএনপি হাই কমান্ড সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থকে বহিষ্কার করেছেন। বহিষ্কারের ফলে এখন তিনি চরম বেকায়দায়। বহিষ্কারের কারণে দলের নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের আর তিনি ধরে রাখতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করে দলে দলে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের পক্ষ ত্যাগ করে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খাঁনের সাথে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় হামিদুল ইসলাম হামিদ ও মুর্শিদা জামান বেল্টুর অনুসারীরা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। বিশেষ করে হামিদুল ইসলাম হামিদ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে দেয়া ওয়াদা রক্ষায় তার অনুসারীদের নিয়ে রাতদিন ঝিনাইদহ-৪ এলাকার প্রতিটি গ্রাম মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন। ইতিমধ্যে হামিদুল ইসলাম হামিদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা এখন উজ্জীবিত। তাদের মধ্যে এখন একই আওয়াজ স্বতন্ত্র প্রার্থী নয়, অন্য কোন মার্কা নয়, শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মার্কা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। ধানের শীষের ঘাঁটি কালীগঞ্জ থেকে বরাবরের মতো আবারো ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করে দেশ নায়ক তারেক রহমানকে উপহার দিতে হবে।
office@ukantho.com