জাতীয়
গঠনমূলক সমালোচনা করেন-অনেক গণমাধ্যম স্বৈরাচারের হাতকে শক্তিশালী করেছে: প্রেস সচিব
উচ্চকন্ঠ 16-Feb-2025 38
এফএনএস: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, আমাদের গঠনমূলক সমালোচনা করেন, প্রশংসা করার দরকার নেই। তিনি বলেন, আমরা চাই, আপনারা প্রত্যেকটা বিষয় তুলে ধরেন। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম চাই ব্যানারে গণমাধ্যমের ফ্যাসিবাদী বয়ান: ফিরে দেখা ১-৩৬ জুলাই শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুল আলম বলেন, কিছু দিন আগে দেখলাম, একটা বড় পত্রিকা প্রফেসর ইউনূসকে নিয়ে প্রশংসাসূচক ২/৩টা লেখা লিখেছে। আমরা তাদের ফোন দিয়ে বলছিÑ এটা লেখার দরকার নাই। আপনি আমাদের গঠনমূলক সমালোচনা করেন, প্রশংসা করার তো দরকার নাই। আমরা চাই, আপনারা প্রত্যেকটা বিষয় তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার খুবই একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়তে চাই। সেটার জন্য গত শনিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়েছেÑ ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে। আমরা চাচ্ছি, পুরো বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল এখানে কন্ট্রিবিউট করুক, বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটি এখানে কন্ট্রিবিউট করুক। তিনি বলেন, আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চাই, যেখানে ফ্যাসিবাদের বয়ান কেউ তৈরি করবে না। যে কেউ অন্ধ হয়ে তার পার্টিকে ফলো করবে না। লিডার কিলিং করছে অথচ আপনি তাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন। এক ধরনের পলিটিক্যাল সেটআপ যেনো বাংলাদেশে না থাকে। আমরা সবাই মিলে এমন একটা দেশ গড়ি, যেই দেশে সবার ভয়েস শোনা যায়। কেউ যাতে বলতে না পারে যে, আমি আমার কথা বলতে পারছি না। যেটা গত ১৫ বছর হয়েছে। অনেক অনেক ভয়েস আমরা দেখেছি, শোনা যায়নি। প্রেস সচিব বলেন, বিগত সময়ে সাংবাদিকতায় ভয়াবহ একটা সময় গেছে। আমরা সেই ভয়াবহ সময়কে দূরে ঠেলতে চাই। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেখানে সব ধরনের ভয়েস থাকবে। আমাকে বড় গলায় যে ক্রিটিসিজম করবে, তাকেও আমরা ধারণ করতে চাই। আমরা রিকনসিলিয়েশনের পথ সবার জন্য উন্মুক্ত করতে চাই। সবাই মিলে আমরা একটা ভালো বাংলাদেশ গড়তে চাই। এমন একটা বাংলাদেশ, যেখানে কোনও বৈষম্য থাকবে না। যেখানে আপনি যেকোনও মানুষকে ক্রিটিসাইজ করতে পারবেন, অবশ্যই সেটা এভিডেন্সসহ। শফিকুল আলম বলেন, ‘কেউ কোনও একটা বয়ান তৈরি করবেন, আর আপনার সম্পর্কে লেখা হবে না, এটা ভাববেন না। প্রত্যেকটা জিনিজ ওয়েল ডকুমেন্টেড থাকবে। আমাদের আগের জেনারেশনে আমরা এটা ফেইল করেছি। ৭৪-এর দুর্ভিক্ষ নিয়ে লিখতে আমরা ফেইল করেছি। রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার নিয়ে লিখতে আমরা ফেইল করেছি। এর আগে আমাদের প্রচুর সমস্যা ছিল, এগুলো নিয়ে লিখতে আমরা ফেইল করেছি। আমরা এবার যেনো ফেইল না করি। আমরা যাতে ফেইল না করি, এর মূল কারণ হচ্ছেÑ আমাদের পরবর্তী জেনারেশন যাতে আমরা যেটা ফেস করেছিÑ তারা যাতে সেটা ফেস না করে। বাংলাদেশে যাতে এরকম স্বৈরতন্ত্রকে লেজিটিমাইজ (বৈধতা দেওয়া) করার যে বয়ান, সেটা যেনো জীবনে তৈরি না হয়। যে-ই ক্ষমতায় আসুক তার হয়ে যাতে কোনও সাংবাদিক দালালি করতে না পারে। এই সরকার একটা উদাহরণ তৈরি করতে চাচ্ছে। আমরা বারবার বলছিÑ আমাদের ভুলত্রæটি থাকলে আপনারা জোর গলায় বলেন, জোর কলমে লেখেন। সাংবাদিকতায় এটা হওয়া উচিত। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম চাই এর মুখপাত্র প্লাবন তারিক, আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশির প্রমুখ।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে অনেক সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন আবার অনেকে ট্রমাটাইজ। সব চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে অনেক গণমাধ্যম ভালো সাংবাদিকতা করেছেন। এর বাইরে অনেক গণমাধ্যম দালালি করেছে। শুধু এক মাস নয়, এর আগে আওয়ামী লীগের পুরোটা সময় ক্ষমতাসীনদের পক্ষে বয়ান তৈরি করেছে অনেক গণমাধ্যম। স্বৈরাচারের হাতকে শক্তিশালী করেছে। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী বয়ান: ফিরে দেখা ১ থেকে ৩৬ জুলাই শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন। প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনার আমলে গণমাধ্যমে স্বৈরাচারের পক্ষে যত বয়ান তৈরি হয়েছে, তার সবকিছু নথিভুক্ত করা হবে। প্রেস সচিব আরও বলেন, ১-৩৬ জুলাই গণমাধ্যমের ভ‚মিকা নথিভুক্ত করা হবে। অনেক গণমাধ্যম শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী এবং জঙ্গি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এরমধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের হত্যার বৈধতা দিয়েছে। ভয়াবহ সাংবাদিকতা হয়েছে। পূর্বাচলের প্লট পাওয়ার জন্য অনেক সাংবাদিক এমন ভূমিকা রেখেছে। নতুন বাংলাদেশে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চান জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা তৈরি করতে হবে। যেসব সংবাদ ক্ষমতাকেই প্রশ্ন করতে পারে।গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা এলে সব পক্ষের সঙ্গেই বসা হবে বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে সরকার তদন্ত করবে না। করলে অনেকে বলবে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগে এ বিষয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। প্রেস সচিব আরও বলেন, এসব ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর বয়ান ডকুমেন্ট করা হবে। তাদের ভূমিকা নিয়েও গবেষণা করা হবে। কারো কণ্ঠ যেন রোধ না হয়, এমন বাংলাদেশ তৈরি করতে চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরাকর। এমন সাংবাদিকতা তৈরি হবে, যেখানে সব সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। যত শক্তিশালীই হোক না কেন, সবাইকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
office@ukantho.com