প্রিয় ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জ বিএনপির তিন গ্রুপই একাট্টা, মসজিদ ও মাদ্রাসার নির্মাণকাজে বাঁধা, পরিচালককে হুমকি
উচ্চকন্ঠ 24-Nov-2025 480
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্টেডিয়াম পাড়া জামে মসজিদ ও দারুস সুন্নাহ হাফেজিয়া মাদ্রাসার রেলওয়ে লিজকৃত জমিতে নির্মাণ কাজে হামলা ও বাধাপ্রদান করেছে বিএনপির তিন গ্রুপের নেতাকর্মীরা। কালীগঞ্জ থানায় এমনটাই লিখিত অভিযোগ করেছে মসজিদ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২৩ নভেম্বর রবিবার সকালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে বৈধভাবে লিজ নেওয়া জমিতে মাদ্রাসা ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত ঘটনাস্থলে এসে নির্মাণসামগ্রী ভাংচুর করে এবং মাদ্রাসার পরিচালককে হুমকি-ধামকি দেয়। এসময় তারা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ প্রদান করে। মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ ইনতাজ আলী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, শওকত আলী ফেলু, জামাল হোসেন, আলম হোসেন, আব্দুস সালাম ও মিরু খাঁ অতর্কিত ঘটনাস্থলে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে এবং মসজিদ-মাদ্রা্সার নির্মাণকাজ বন্ধ করতে হুকুম প্রদান করে। অন্যথায় খুন-জখম এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা যায়, বিবাদীরা সবাই ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের্ নেতাকর্মী। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত। স্থানীয়রা জানান, বিএনপির একাংশের নেতা শওকত হোসেন ফেলু ওরফে ফেলু খোড়া প্রতিদিন শাপলা কাউন্টার থেকে নিয়মিত হারে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা তোলেন। এছাড়া তিনি এলাকায় নানান অপকর্মের সাথে জড়িত।
বিএনপির আরেক অংশের পরিচিত নাম মিরু খাঁ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একসময় যুবলীগ নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী রাসেল বাহিনীর সহযোগী ছিলেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি খোলস পাল্টিয়েছেন। মিরু খাঁর বিরুদ্ধে এমপি আনারুল আজিম আনারের হাত থেকে শেখ হাসিনার তহবিলের সাহায্য গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসী রাসেলের পেটুয়া বাহিনীর সকল সদস্যই বর্তমানে মিরু খাঁর নেতৃত্বে বিএনপির একাংশের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। তারা এখনও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, হামলাকারী চক্রের আরেক সদস্য আব্দুস সালাম, যিনি একসময় সন্ত্রাসী রাসেলের গেঞ্জি বাহিনীর সদস্য ছিলেন। ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পরে আব্দুস সালাম ভোল পাল্টিয়ে স্থানীয় বিএনপির আরেক প্রভাবশালী গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মসজিদ-মাদ্রাসার নির্মাণ কাজে বাধাদানকারী এরা সকলেই কালীগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের সদস্য হলেও জমি দখল, চাঁদাবাজী ইত্যাদি কর্মকান্ড একত্রে চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এলাকাবাসীর মন্তব্য, কালীগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ কোথাও একাট্টা না হলেও ৭নং ওয়ার্ডে একাট্টা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
office@ukantho.com