প্রিয় ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জে ৪০ বছর বাকে করে অপ্রচলিত সবজি বিক্রি করে আসছেন তাহাজ মন্ডল
উচ্চকন্ঠ 05-Oct-2025 81
নিজস্ব প্রতিবেদক: শুধু গ্রামেই নয়,শহরে তরকারি হিসেবে শাপলা,কলার মোচা, কচুপাতার শাক, কলার থোড়, হেলানচা তরকারি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কাটাচ্ছেন নিজের সংসারের দৈন্যদশা। মাঠে কোন জায়গা জমি নেই, ভারী কাজ করতে পারেন না। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে আয়ের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন শাপলা ফুল, কলার মোচাসহ নানা সবজীর ব্যবসা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরবা গ্রামের তাহাজ মন্ডল বিভন্ন রকমের সবজি বিক্রি করে সংসার চালান প্রায ৪০ বছর যাবত।
তিনি প্রতিদিন কলার মোচাসহ বিভিন্ন সবজি দুটি ঝুড়িতে সাজিয়ে বাঁকে করে শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বিক্রি করেন। প্রতিটি কলার মোচা ২৫ থেকে ৩০ টাকা করে বিক্রি করেন। কলার মোচাসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে যায়।তাহাজ মন্ডল ২০ থেকে ২৫টি মোচা বিক্রি করেন।কলা গাছের ভেতরের নরম অংশসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করেন। তাহাজ মন্ডল জানান, কলার মোচা সংগ্রহ করতে তাকে বিভিন্ন গ্রামের কলাচাষীদের কাছে ধর্ণা দিতে হয়। চাষীরা কলার মোচা বাবদ কোন টাকা পয়সা নেয় না। প্রতিদিন সকালে কলার মোচা ও কলার থোড়, কলমী শাক,কচু শাক, হেলেঞ্চা শাক ও শাপলা বিক্রি করেন।পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে কলার মোচাসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করায় তাহাজ মন্ডল শহরের অনেকের কাছে সবজি চাচা হিসেবে পরিচিত।খাল,বিল,নদীবেষ্টিত কালীগঞ্জের জলাভূমিতে এখন প্রাকৃতিক ভাবে ফোটা শাপলার সমারোহ। ফুল প্রজাতির হলেও সবজি হিসাবে সুস্বাদু শাপলা। বাজারে চাহিদা থাকায় নয়ন জুড়ানো শাপলা তুলে বিক্রি এখন বিকল্প আয়ের উৎস তাহাজ মন্ডলের। প্রাকৃতিক ভাবে হওয়ায় উৎপাদনে প্রয়োজন নেই পুঁজির। বিনা পুঁজিতেই শাপলা আহরণ ও বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছর কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কলার মোচা, কলাগাছের ভেতরের নরম শাঁস, বিভিন্ন প্রকারের সবজি বিক্রি করে আসছেন। এতে যা আয় হয় তা দিয়েই কোন রকমে চলে যাচ্ছে ৫ সদস্যের সংসার। শারিরিক ভাবে দূর্বল হওয়ায় তাহাজ মন্ডল কোন ভারী কাজ করতে পারেন না। তাহাজ মন্ডলের ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন,ছেলেরা বিভিন্ন কৃষকের ক্ষেতে কামলার কাজ করেন। বিভিন্ন প্রকারের সবজি বিক্রি করতে তাকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়।সদা হাস্যোজ্জ্বল তাহাজ মন্ডল বলেন, জীবনের বাকি সময়টুকু সুস্থ শরীরে এভাবেই কাটাতে চাই।
বিশেষ করে উপজেলার বিল গুলোতে এখন ভরা যৌবন। বর্ষার নতুন পানিতে প্রান ফিরে পেয়েছে বেশকিছু বিল। জীবন জীবিকার অন্বেষণে তিনি চষে বেড়াচ্ছে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। বিলের জলাশয় গুলো স্থানীয় মানুষের আহারের ব্যবস্থা করতে চলেছে। নতুন পানিতে ফুটেছে অসংখ্য শাপলা ফুল। ভোরে এসব ফুল একসাথে ফুটে উঠলে মনে হয় যেন শাপলার সাম্রাজ্য। এই শাপলা, কলমি শাক, হেলানচা, কচু শাক তুলে স্থানীয়দের আহার যোগাতে সহযোগিতা করেন। তাহাজ মন্ডল প্রতিদিন সকালে শাপলা তুলতে বের হয়ে যান জলাশয় এলাকায়। নেই কোন নৌকা, বুক সমান পানিতে নেমে তিনি শাপলা ও কলমি শাক তুলে থাকেন। বেলা ১১ টার দিকে বাড়ি থেকে বাকের দুই পাশে ঝুড়িতে সবজি সাজিয়ে কাধে নিয়ে হাটতে হাটতে কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়ির সামনে গিয়ে হাক মারেন বিভিন্ন সবজির কথা। তাহাজের কথা শুনলে বাসা বাড়ির লোকজন বেরিয়ে আসেন সবজি কিনতে। এ ভাবে সবজি বিক্রি করে চলে তার সংসার।
office@ukantho.com