প্রিয় ঝিনাইদহ
অপহরণ লিবিয়ায় মুক্তিপণের টাকা লেনদেন বাংলাদেশে!
উচ্চকন্ঠ 11-Sep-2025 52
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: লিবিয়ায় কাজ করতে গিয়ে অপহরণের শিকার ঝিনাইদহ ও যশোরের দুই যুবক মোটা অংকের টাকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছে। পাঁচদিন আটকে রেখে লিবিয়ার মাফিয়া চক্রটি দুই পরিবারের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ১২ লাখ টাকা। বাংলাদেশের দুইটি ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে রশিদ দেখানোর পর ফেরদৌস ও আলী হোসেন নামে দুই বাংলাদেশী যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়।
পরিবার দুইটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল শহর মিসরাতা থেকে যশোরের পলুয়া গ্রামের ফেরদৌস ও ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার রিশখালী গ্রামের আলী হোসেনকে অপহরণ করে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। এই গ্রুপে লিবিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশী দুর্বৃত্তরাও অংশ নেয়।
অপহরণের পর ওই দুই যুবককে লিবিয়ার উত্তর-পর্বাঞ্চল শহর বেনগাজিতে আনা হয়। তাদের সঙ্গে আরো অন্তত ২০ বাংলাদেশী অপহৃত শ্রমিক ছিল। সন্ত্রাসীরা মুক্তিপণ না দিলে সবাইকে হত্যা করা হবে বলে হুমকী দিয়ে তাদের পরিবারের কাছে বার্তা পাঠায়।
হরিণাকুন্ডু উপজেলার রিশখালী গ্রামের চাঁদ আলী জানান, তার ছেলে অপহরণের পর লিবিয়া থেকে +২১৮৯২৭৬২১৪৮৬ নাম্বারের ইমো ব্যাবহার করে তার ছেলে আলী হোসেনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। ছেলের কান্না জড়িত কন্ঠে জানায় টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে। অপহরণের দিনই লিবিয়া থেকে ৪ লাখ টাকা প্রদান করে।
চাঁদ আলী সন্তানের আকুতি দেখে জমি বিক্রি করে গত ২৪ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংক ডাকবাংলা শাখা থেকে চার লাখ টাকা অপহারণকারীদের দেওয়া ২০৫০৭৭৭০২৮৬৫১৪৩১৭ নাম্বারের ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার একাউন্টে পাঠান।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, একাউন্টটি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া বাজারে ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের। একাউন্টটি মোছাঃ রুকসানা নামে এক মহিলার নামে পরিচালিত হয়। লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের সাথে রুকসানার ভাই জড়িত বলে সন্দেহ করছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
তবে রুখসানার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, লিবিয়ায় তার ভাই থাকে। ভাইয়ের নাম জিজ্ঞাসা করতেই লাইন কেটে দেন।
অপরদিকে যশোরের পলুয়া গ্রামের সালমা খাতুন নামে এক নারী গত ২৪ এপ্রিল ইসলামী এজেন্ট ব্যাংক ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর বাজার শাখা থেকে চার লাখ টাকা অপহারণকারীদের দেওয়া ২০৫০২৬৩০১০০১৮২১১০ নাম্বারের একাউন্টে পাঠানো হয়। হরিণাকুন্ডুর রিশখালী গ্রামের আলীর সঙ্গে সালমা খাতুনের ছেলে ফেরদৌস অপহৃত হয়েছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোরের চৌগাছা উপজেলার ছুটিপুর বাজারের ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের শাখা থেকে নগদ অর্থ নড়াইলের রূপগঞ্জ বাজারস্থ ২০৫০২৬৩০১০০১৮২১১০ নাম্বারের ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকে পাঠানো হয়। এই একাউন্টটি পরিচালানা করেন মরিয়ম ট্রেডার্সের মালিক জুল হুসাইন নামের এক ব্যক্তি। যার লেদদেন আইডি ৫১২৫০৪২৪০০০১৯১৪৩।
ইসলামী ব্যাংক রূপগঞ্জ বাজার শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হুমায়ন কবীর জানান, গত ২৪ এপ্রিল মরিয়ম ট্রেডার্সের মালিক জুল হুসাইনের একাউন্টে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকা পাঠানো হয়েছে। তবে কি উদ্দেশ্যে বা কারা পাঠিয়েছেন তা তিনি জানেন না।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, লিবিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় বাংলাদেশী দুর্বৃত্ত সেদেশের মাফিয়া চক্রের সহায়তায় শ্রমিকদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। লিবিয়ায় অপহরণ হলেও মুক্তিপণের বেশির ভাগ টাকা লেনদেন হচ্ছে বাংলাদেশে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, পুলিশ তৎপর হলেই লিবিয়ায় অবস্থানরত এদেশীয় দুর্বৃত্তদের সহজেই সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া জানান, এ ধরণের খবর পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পারিবারের বক্তব্য জানতে পুলিশ পাঠানো হয়। ভুক্তভোগীরা যে সব একাউন্টে টাকা দিয়েছে ইচ্ছা করলে তারা মামলা করতে পারেন। মামলা হলে তদন্ত করে পুলিশ এদেশীয় এজেন্টদের খুজে বের করতে পারবে।
office@ukantho.com