জাতীয়
দেশব্যাপী চলছে আওয়ামী নিধনযজ্ঞ, পরবর্তী শাসকদের এ থেকে শিক্ষা নিতে বললেন আন্দোলনকারীরা
উচ্চকন্ঠ 06-Feb-2025 32
গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শেখ মুজিবের সবচেয়ে বড় ম্যুরালটি
এফএসএস: ভেঙে ফেলা হলো শেখ মুজিবুর রহমানের দেশের মধ্যে সব থেকে বড় ম্যুরালটি। যশোর শহরের কালেক্টরেট ভবনের কাছে বকুলতলা মোড়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এক্সকেভেটর দিয়ে ম্যুরালটি ভাঙা শুরু হয়। বিকেল চারটার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এক্সকেভেটর, হাতুড়ি, শাবল নিয়ে ¯েøাগান দিতে দিতে জড়ো হন যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানার অদূরে বকুলতলায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কালেক্টরেটের উত্তরপূর্ব কোণে অবস্থিত ম্যুরালটি ¯েøাগানের তালে তালে ভাঙতে শুরু করেন তারা। সন্ধ্যা ছয়টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভাঙার কাজ চলছিল। এ নিয়ে যশোরে শেখ মুজিব ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্কিত আটটি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। যা শুরু হয়েছে গত বুধবার রাত দশটা থেকে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ভাষণকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে তার অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার বকুলতলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর আগে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা যশোরের যেসব স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল তার মধ্যে বকুলতলার ম্যুরালটিও ছিল। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ম্যুরালটি উদ্বোধন করেছিলেন। এর নাম ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ম্যুরাল’। ১৬ ফুট উচ্চতার এই ম্যুরালটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছিল ২৯ লাখ ৯ হাজার ৯৫ টাকা। যশোরে স্থাপিত এই ম্যুরালটিই ছিল দেশের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সব থেকে বড় ম্যুরাল। তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও সাবেক জনপ্রশাসন সচিব মহিবুল হক এটি নির্মাণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছিলেন।
মধ্যরাতে বুলডোজার চললো হাসানাত-আমুর বাসভবনে
এফএনএস: বরিশাল নগরীতে তিন ঘণ্টাব্যাপী বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর চালানো হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামÐলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর বাসভবনে। আমু বর্তমানে ঢাকায় কারাগারে রয়েছেন। ধানমন্ডিতে ভাংচুরের খবরে বরিশাল নগরীতেও নেমে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১২টায় বুলডোজার নিয়ে নগরীর কালিবাড়ী রোডের সেরনিয়াবাত ভবনে প্রবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই ভবন ভাঙচুর শেষে বুলডোজার নিয়ে যাওয়া হয় নগরীর বগুরা রোডে আমির হোসেন আমুর বিলাসবহুল দ্বিতল ভবনে। প্রথমে বিশাল গেট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর ভবনের ভেতরে চলে ভাঙচুর। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাসার ভেতরে থাকা আসবাবপত্র বাইরে এনে ভাঙচুর করেন। এ সময় বুলডোজার দিয়ে বারবার আঘাত হানা হয় আমুর ভবনে। বাদ যায়নি আমুর ভবনসংলগ্ন অপসোনিন কেমিক্যালের মালিকের ভবনও। সেখানেও ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা বুলডোজার নিয়ে চলে যান। সেখানে উপস্থিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগরের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, বাংলাদেশে কোনও ফ্যাসিস্টের স্থান হবে না। জুলাই-আগস্টের আন্দোলন কারো মদতে হয়নি। শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকেই ওই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করেছে। সে এখন ভারতে অবস্থান করে সেখানে বসে উসকানি দিচ্ছে। তারা যাতে বাংলাদেশে আর আসতে না পারে এ জন্য তাদের আবাসস্থান গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ থেকে পরবর্তীতে যারা সরকার পরিচালনা করবে তাদের জন্যও বিষয়টি শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট বিকালে আবুল হাসানাতের বাসভবনে এবং আমির হোসেন আমুর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করেন ছাত্র-জনতা। ওই সময় সেরনিয়াবাত ভবন থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার হয়েছিল। ওই অগ্নিকাÐের পর থেকে সেরনিয়াবাত ভবনে কেউ বসবাস করছেন না। তবে আমির হোসেন আমুর বাসভবন সংস্কার করা হলেও সেখানেও কেউ থাকেন না।
কুমিল্লায় সাবেক এমপি বাহারের বাড়ি ও আ. লীগ অফিস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ
এফএনএস: কুমিল্লায় সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বাড়ি ও মহানগর আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার দিবাগত রাত ১টার পর এ ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধরা পেট্রোল ঢেলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানান, গত বুধবার রাত ১টার দিকে কুমিল্লা নগরীর মুন্সেফবাড়ি এলাকার এমপি বাহারের বাড়ির জানালার গ্রিল ভাঙার চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধরা। পরে তালা ভেঙে অনেকে ভেতরে ঢোকেন। অনেকে বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে বাড়িটিতে ভাঙচুর চালান তারা। পরে পেট্রোল ঢেলে বাড়ির কয়েকটি কক্ষে এবং ভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ওই বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছিল। এদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের রামঘাট এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়। বিক্ষুব্ধরা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থাকা ইটের গাঁথুনি ভেঙে ফেলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরের আহŸায়ক আবু রায়হান জানান, স্বৈরাচার সরকার ভারতে পালিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ থেকে পালানোর পরও কখনও ভিডিও বার্তা, কখনও অডিও বার্তার মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার এসব অপতৎপরতা দেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। তাই বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর শেষে বাহারের বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন দিয়েছে। সাবেক এমপি বাহার বছরের পর বছর ধরে কুমিল্লার মানুষের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছে।
ভোলায় তোফায়েল আহমেদের বাসভবনে ভাঙচুর-আগুন
এফএনএস: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও ভোলা-১ (সদর) আসনের সাবেক এমপি তোফায়েল আহমেদের বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গত বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ভোলা শহরের গাজীপুর রোডের প্রিয় কুটির নামের বাসভবনে এ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। বুধবার রাত পৌনে ১টার দিকে প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা তোফায়েল আহমেদের বাসভবনে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বাসায় দোতলা ও নিচতলায় আগুন দেয় তারা। পরে তাদের মধ্য থেকে একটি দল সড়কে হ্যান্ডমাইকে জয়বাংলার গান বাজিয়ে নাচতে থাকে ও গানের তালে তালে জয়বাংলা ¯েøাগান দিতে থাকে। বিক্ষুব্ধরা জানালার কাচ ভেঙে ফেলেন। কয়েকটি ফ্যান ও আসবাব লুট করে নিয়ে যায় তারা। একপর্যায়ে কক্ষের ভেতরে থাকা কিছু আসবাব ভেঙে ঘরের ভেতর আগুন ধরিয়ে দেন। পরে বাড়ির সামনে থাকা একটি পুলিশ বক্স ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তোফায়েল আহমেদ এ বাড়িতে থাকেননি। তিনি বেশিরভাগ সময় বাংলাবাজারের বাড়িতে অবস্থান করতেন। এ বিষয়ে জানতে ভোলা সদর থানার ওসি ফোন দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তোফায়েল আহমেদ ভোলা শহরের এই বাড়িটি তার একমাত্র সন্তান ডা. মুন্নির নামে লিখে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর বাড়িটির নাম ‘প্রিয় কুটির’ রাখা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় ভেঙে ফেলা হলো শেখ মুজিবের ম্যুরাল ও আ.লীগের অফিস
এফএনএস: চুয়াডাঙ্গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ম্যুরাল এবং জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। এ সময় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ম্যুরাল দুটি। পার্টি অফিসের ভবনের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালানো হয়। মধ্যরাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। এ সময় উপস্থিত ছাত্রদের, জনে জনে খবর দে, মুজিববাদের কবর দে, দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা, জনে জনে খবর দে, আওয়ামী লীগের কবর দে, মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ ইত্যাদি ¯েøাগান দিতে শোনা গেছে। ভাঙচুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাফফাতুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানের মুজিব ম্যুরালের কবর রচনা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহŸায়ক আসলাম হোসেন অর্ক বলেন, শেখ হাসিনা দেশব্যাপী যে ফ্যাসিবাদী চিহ্ন রেখে গেছে, আমরা তা নিশ্চিহ্ন করতে আজ এখানে একত্র হয়েছি। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে, যতক্ষণ না ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার ঘোষণার প্রতিবাদেই ছাত্ররা এ কর্মসূচি পালন করেন।
পিরোজপুরে আ. লীগ নেতাদের বাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের পর আগুন
এফএনএস: গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানান ছাত্র-জনতা। পরে রাত ১টার দিকে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল ও তার ভাই পিরোজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান মালেকের পাড়েরহাট সড়কের বাড়ি ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার পর থেকেই বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল ও বিক্ষোভ করেন। এরপর রাত ১টার দিকে একদল ছাত্র-জনতা পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে শহরের পাড়েরহাট সড়কের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল ও তার ভাই পিরোজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের বাড়ি গিয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান মালেকের মালিকানাধীন একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়। এ সময়ে জনতাকে আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন ¯েøাগান দিতে শোনা যায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান ফুলুর সদর উপজেলার খামকাটার গ্রামের বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
যশোরে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল-ভাস্কর্যসহ ৮ নামফলক ভাঙচুর
এফএনএস: যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, জেলা পরিষদ, সদর উপজেলা পরিষদ, যশোর পৌরসভায় নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ও মণিহার এলাকায় বিজয়স্তম্ভের প্রাচীরসহ কমপক্ষে ৮ নামফলক ভাঙচুর করেছেন ছাত্র ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন সংগঠনের জেলা আহŸায়ক। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে প্রথমে কয়েকজন ছাত্র এসে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটি ভেঙে ফেলেন। ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে করে ২৫-৩০ জন যুবককে সেখানে যায়। এরপর তাদের হাতে থাকা লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে তারা নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার, ইনকিলাব জিন্দাবাদ ইত্যাদি ¯েøাগান দিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। এরপর তারা জেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও ভেঙে ফেলেন। পরে তারা যায় পুরাতন কসবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে উদ্বোধক হিসেবে থাকা শেখ হাসিনার নামফলক ভাঙচুর করেন। এ সময় তারা যশোর পৌরসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অর্ধেক ভাঙা ভাস্কর্যটিও পুরোপুরি ভেঙে ফেলে দেন। ভেঙে ফেলেন যশোর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অফিসের উদ্বোধনী নামফলকও। পরে একে একে ওই যুবকরা শহরের অন্তত আটটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেখানে শেখ হাসিনার নামফলক ছিল সেসব ভেঙে দেন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়স্তম্ভে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও সেখানকার নামফলক ভাঙা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোরের আহŸায়ক রাশেদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাঙচুরকারীরা নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবার ¯েøাগান দিয়ে ভাঙচুর চালায়। তাদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। ভাঙচুরের বিষয়ে আমাদের কোনও নির্দেশনা ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, এই ধরনের কোনও ঘটনা আমার জানা নেই।
ঢাবির হল থেকে মুছে ফেলা হলো শেখ মুজিবের নাম
এফএনএস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পাড়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার মধ্যরাতে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে পৌঁছায়। পরবর্তীতে হলের প্রধান ফটক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নামটি খুলে ফেলে তারা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের উদ্বোধনের সময় লেখা শেখ হাসিনার নামও মুছে ফেলেছে শিক্ষার্থীরা। তার আগে এদিন রাত ৯টায় অনলাইনে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাসভবন ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে সারা দেশে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার নাম সম্বলিত সব স্থাপনা ভাঙচুর করছে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা।
সুধা সদনে বিক্ষুব্ধদের আগুন
এফএনএস: রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পর একই এলাকার ৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদনেও আগুন দিয়েছে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র। গত বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ভবনটিতে আগুন দেয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই পুরোপুরি খালি ছিল সুধা সদন। এরপর গত বুধবার শেখ হাসিনার বক্তব্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। তারা প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে আগুন দেয়। পরে শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদনেও আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা জানায়, যারা ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, সেসব ফ্যাসিবাদীর কোনও চিহ্ন বাংলাদেশের মাটিতে রাখতে চাই না। অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনে যোগদানের ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে গত বুধবার রাত ৯টার দিকে লং মার্চ টু ধানমন্ডি-৩২ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স।
রংপুরে ভেঙে ফেলা হলো শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরাল
এফএনএস: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কারমাইকেল কলেজে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ম্যুরাল দুটি ভেঙে ফেলেন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের বুলডোজার এনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করছেন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের কাছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় কিছু নেতাকর্মী হাতুড়ি, রড ও খুন্তি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। রাত ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধুর মুরালে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সেখানে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর কমিটির সদস্যসচিব রহমত আলী, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সুমন সরকার প্রমুখ। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নামফলক ভেঙে ফেলা হয়।
সিলেটে ভেঙে ফেলা হলো শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল
এফএনএস: সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভেঙে ফেলা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা জানিয়েছেন, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরের কিনব্রিজ এলাকা থেকে সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি বুলডোজার নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যান। পরে ম্যুরালটি গুঁড়িয়ে দেন তারা। এদিকে, রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরের বন্দরবাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও তাদের নিষিদ্ধ অঙ্গসংগঠন কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচির প্রতিবাদ এবং সকল গুম, খুন, দুর্নীতিসহ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাÐ এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ¯েøাগান দেওয়া হয়। মিছিলটি পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যায়। সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে অবহিত নন বলে জানিয়েছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু-শেখ হাসিনাসহ তিন আবাসিক হলের নামফলক ভাঙচুর
এফএনএস: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সব নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিচ্ছেন একদল শিক্ষার্থী। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বর থেকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে মিছিল নিয়ে কয়েকটি আবাসিক হলের নামফলক ভেঙে নতুন নামকরণ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে বিজয়-২৪ হল, নির্মাণাধীন শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে শহীদ আলী রায়হান হল ও শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা এ সময় স্বৈরাচারের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না, মুজিববাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না, আবু সাঈদ মুদ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আগুন জ্বালো একসাথে প্রভৃতি ¯েøাগান দেন। সরেজমিন দেখা যায়, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা দলে দলে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে জড়ো হন। পরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে যান। তারা হলটির নামফলক, উদ্বোধনী ফলকসহ শেখ মুজিবের চিহ্ন সংবলিত স্থাপনাগুলো রড, হাতুড়ি ও কোদাল দিয়ে ভেঙে দেন। পরে হলটির নতুন নাম বিজয় ২৪ ঘোষণা করে রং দিয়ে দেয়ালে দেয়ালে নাম লিখে দেন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে নির্মাণাধীন এ এইচ এম কামারুজ্জামান, শেখ হাসিনা হলেরও নামফলক ভেঙে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের নামফলক ভাঙছিলেন তারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা বলেন, শেখ হাসিনা লাইভে এসে ছাত্র-জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রতিবাদে আমাদের এ কর্মসূচি। আমার ভাইদের রক্তের দাগ না শুকাতেই খুনি হাসিনা প্রকাশ্যে আসার সাহস দেখায় কীভাবে? আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া পদচিহ্ন ও রাবি থেকে তাদের শিকড় মুছে দিতে আমাদের আজকের আন্দোলন।
পাবনায় আ. লীগ কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল ছাত্র-জনতা
এফএনএস: বুলডোজার দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা সদরের জেলা কার্যালয় ভেঙে ও আগুন দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনা আবাসিক হলের নামফলক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শেখ রাসেল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আবাসিক হলের নামফলকও মুছে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও ঈশ্বরদী আলহাজ মোড়ে স্মৃতিস্তম্ভের পাশে নির্মিত বিদ্বেষ ছড়ানো ঘৃণাস্তম্ভ ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গত বুধবার দিবাগত রাতব্যাপী এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে রাত ৯টার দিকে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের শহীদ চত্বরে শেষ হয়। পরে সেখানে বড় পর্দায় জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের পাবনা জেলার আহŸায়ক বরকত উল্লাহ ফাহাদ বলেন, দেশের কোথাও ফ্যাসিবাদের চিহ্ন থাকবে না ইনশা আল্লাহ। ফ্যাসিবাদের শেষ পরিণতি দেখে কেউ যাতে আর ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে সাহস না পায়। ফ্যাসিবাদী পুনঃপ্রতিষ্ঠার কার্যক্রম ছাত্র-জনতা এভাবেই রুখে দেবে ইনশাআল্লাহ। এ ব্যাপারে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, পাবনা জেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। নিয়মিত পুলিশের টহল কার্যক্রম অব্যাহত আছে। কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। পাবনা জেলা পুলিশ তৎপর আছে। আমরা এরকম (ভাঙচুর) কোনো অভিযোগ পায়নি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
পটুয়াখালীতে শেখ মুজিবের ২ ম্যুরাল ভাঙচুর
এফএনএস: পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গত বুধবার গভীর রাতে জেলা পরিষদ ও র্যাব ক্যাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা পরিষদের সামনে জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। পরে একত্রিত হয়ে তারা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে র্যাব ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ¯েøাগান দেন এবং র্যাব ক্যাম্প সংলগ্ন ম্যুরালেও ভাঙচুর চালান। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, এই প্রতীকগুলো নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের চিহ্ন। এগুলোর উপস্থিতি ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনাকে কলুষিত করে। আমাদের শহরে এর কোনো জায়গা নেই। ভবিষ্যতে যেকোনো স্বৈরাচারের প্রতীক এভাবেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর
এফএসএস: নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। যদিও এ হামলার সময় ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের কোনও সদস্য কিংবা নিকট আত্মীয় বাড়িতে ছিলেন না। গত বুধবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েই বৃহস্পতিবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এই হামলা ও ভাঙচুর চালান। যদিও গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে ওবায়দুল কাদের ও তার ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জাসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন। সেদিন বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান। এরপর রাতের আঁধারে কিছু লোক সেই বাড়ির আবারও সংস্কার চালায়। সেখানে ভেঙে যাওয়া দরজা জানালা নতুন করে লাগায়। ছয় মাসের মাথায় দ্বিতীয়বারের মতো ওবায়দুল কাদেরের পৈতৃক বাড়িতে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময়ে আব্দুল কাদের মির্জার ঘরের ভেতরে অবশিষ্ট থাকা আসবাবপত্র আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ওবায়দুল কাদেরের আরেক ছোট ভাই শাহাদাত হোসেনের বাড়িতেও আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা জানান, পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচার হয়ে ওঠার পেছনে ওবায়দুল কাদের ও তার পরিবারের লোকজনের বড় ভ‚মিকা ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালীর সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম জানান, আগামীতে যাতে কেউ আর স্বৈরাচার হতে না পারে, আজকের দিনটি তাদের জন্য বিশেষ সংকেত। যতবারই স্বৈরাচার মাথাঝাড়া দিয়ে উঠবে ততবারই ছাত্র-জনতা তাদের স্বৈরাচারকে ধূলিসাৎ করবে। এ বিষয়ে জানতে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিমের মোবাইল ফোনে কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাবেক এমপি জর্জের কার্যালয় ভাঙচুর-লুটপাট
এফএসএস: যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে দুই দফা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাতে এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-জনতা এ ভাঙচুর চালায়। সরেজমিন দেখা যায়, কুমারখালী পাবলিক লাইব্রেরির সামনে তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় সাবেক এমপি জর্জের ব্যক্তিগত কার্যালয়। কার্যালয়ের দরজা, জানালা, আসবাবপত্র, এসিসহ যাবতীয় জিনিসপত্রের ভাঙা অংশ যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটে আছে। কয়েক শিশু এসব ভাঙা অংশের টুকরা খুঁজছে। এসময় প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রæত সটকে যায়। স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পালিয়ে যান সাবেক এমপি জর্জ ও তার সমর্থকরা। সেদিন প্রথম দফায় জর্জের কার্যালয়ে বাইরে থেকে ভাঙচুর করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-জনতা। গত বুধবার রাতে এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট করা হয়। বর্তমানে সাবেক এমপি জর্জ একাধিক হত্যা ও রাজনৈতিক মামলায় কুষ্টিয়া কারাগারে রয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমারখালী উপজেলার সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আলী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ফেসবুকে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে সাবেক এমপি জর্জের কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। তবে কোনো লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশালে সাদিকের মায়ের নামে নির্মিত পার্ক-বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর
এফএসএস: বরিশাল নগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগমের নামে নির্মিত পার্ক অপসারণের লক্ষ্যে ভাঙচুর চালিয়েছে ছাত্র সমাজ। একইসময়ে বরিশাল প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দর উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ ভাঙচুরে অংশগ্রহণ করে। তবে এ সময় আশপাশে কোথাও আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, জনগণের টাকা আর রাষ্ট্রের টাকা একই জিনিস। কিন্তু জনগণের সেই টাকা ব্যয় করার আগে একবারও মতামত নেওয়া হয় না। বরিশাল নগরের চৌমাথা এলাকায় জনগণের আপত্তির মুখে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ মহাসড়ক ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের জায়গা দখল করে একটি পার্ক নির্মাণ করেন। রাষ্ট্র বা জনগণের টাকা ব্যয় করে নির্মিত সেই পার্কের নাম দেয় তার মায়ের নামে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, এই পার্কের কারণে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক সরু হয়ে গেছে। ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই আমরা এটিকে এখান থেকে অপসারণের কথা বিভিন্ন দপ্তরকে বলে আসছি কিন্তু তারা তাতে ভ্রূক্ষেপ করেননি। আজ তাই ছাত্র সমাজ উদ্যোগ নিয়ে বিকেল ৪টা থেকে পার্কটির বিভিন্ন স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে এটি অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থী ছাব্বির হোসেন বলেন, আমরা চাই এই পার্ক অপসারণ হয়ে সড়কটি প্রশস্ত হোক এবং মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও স্বাভাবিক হোক। এদিকে শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয়রাও ভাঙচুরে শামিল হন। বিকেল ৩টার দিকে বরিশাল প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। যদিও ৫ আগস্টের ভাঙচুরে ঘটনায় ম্যুরালের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। এখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, স্বৈরাচার সরকারের কোনো নিদর্শন বাংলার মাটিতে রাখা হবে না। আর সেই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রসমাজের নতুন এ কর্মসূচি চলমান থাকবে। এর আগে গত বুধবার রাতে নগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর কালিবাড়ি রোডের বাসভবন ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামÐলীর সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর বগুড়া রোডের বাসভবনের সামনের অংশ সীমানা প্রাচীর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
কিশোরগঞ্জে ভাঙা হলো মুজিবসহ সাবেক ৪ রাষ্ট্রপতির ম্যুরাল ভাঙচুর
এফএসএস: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সাবেক চার রাষ্ট্রপতির ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ম্যুরালে ভাঙচুর চালান একদল শিক্ষার্থী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মো. জিল্লুর রহমান ও মো. আবদুল হামিদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। ওই তিন নেতার পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি ম্যুরাল নির্মাণ করা হয় বাজিতপুর বাজারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ম্যুরালটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন ম্যুরালের সামনে অবস্থান নেন। পরে শেখ মুজিবের ছবিটি ভাঙচুর করেন তারা। এদিকে এমপি মার্কেটের অবস্থান ম্যুরাল লাগোয়া। বাজিতপুর-নিকলী উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের টানা চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন মো. আফজাল হোসেন। তিনি বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। মার্কেটটির মালিক তিনি। ম্যুরাল ভাঙচুরের সময় এমপি মার্কেটে ভাঙচুর হতে পারে, এমন ধারণায় ব্যবসায়ীরা দোকান থেকে পণ্য সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে রাখেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, এই মার্কেটে আফজাল হোসেনের রাজনৈতিক কার্যালয় ছিল। গত ৫ আগস্টের পর মার্কেটে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সে অভিজ্ঞতা থেকে ব্যবসায়ীরা আগেভাগে পণ্য সরিয়ে নেন।
office@ukantho.com