সারা বাংলা খুলনা মাগুরা
সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মাগুরার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল
উচ্চকন্ঠ 21-Aug-2025 61
বসির আহাম্মেদ, মাগুরা থেকে ফিরে: জলাবদ্ধতা, খানাখন্দ আর গর্তের কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মাগুরার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। বছরের পর বছর নেই উল্লেখযোগ্য সংস্কারের ছোঁয়া। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাজুড়ে জমে থাকে পানি, আর গর্তে ভরা টার্মিনালজুড়ে তৈরি হয় দুর্ঘটনার আশঙ্কা। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার পর কেটে গেছে দুই যুগেরও বেশি সময়, কিন্তু হয়নি কোনো বড় ধরনের সংস্কার। ফলে অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার কারণে দুর্দশা পিছু ছাড়ছে না যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের।
গর্তে ভরা রাস্তাঘাট। পিচ উঠে গেছে বহু আগে। বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা কারণ অনেক আগে থেকেই বন্ধ ড্রেন। গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তার মাঝেই টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। এভাবেই ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন চলে শত শত গাড়ি। চিত্রটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলার জন্য গুরুত্বপুর্ণ এ টার্মিনালটি বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে। চারদিকে ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কোথাও জমে থাকে হাঁটুসমান পানি। টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও ভয়াবহ। পরিবহণ শ্রমিক থেকে শুরু করে বাস যাত্রী সবাইকে চলতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবস্থা এমন হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না কোনো কার্যকর উদ্যোগ। স্থায়ীভাবে সংস্কার করার দাবী তাদের।
রয়েল পরিবহনের চালক উত্তম কুমার জানান, মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল দির্ঘদিন ধরে খানাখন্দ আর গর্তের কারণে আমাদের পরিবহন নিয়ে টার্মিনালে ঢুকতে ইচ্ছে করেনা। তার পরও যাত্রীদের বহন করার জন্যই মুলত প্রবেশ করতে হয়।
বাদশা নামের এক যাত্রী জানান, এখান কার প্ররিবেশ এতোটাই খারাপ যে এখানে আসতে মন চাই না। তারপরও ঢাকাতে যেতে হলে এখানে আসতে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে আমি দ্রুত এ টার্মিনালের সংস্কার দাবী করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব উদ্দিন জানান, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার পর কেটে গেছে দুই যুগেরও বেশি সময়, কিন্তু হয়নি কোনো বড় ধরনের সংস্কার। তাই আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করে যাত্রী দূভোগ কমাবে কর্তৃপক্ষ।
মাগুরা পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহ্সান বারী জানান, টার্মিনালের সম্প্রসারণসহ নতুন করে তৈরীর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই শুরু হবে কাজ। আর এখনকার ভোগান্তি রোধে কিছুদিনের মধ্যেই করা হবে সংস্কার।
উল্লেখ্য, বিগত ২০০১ সালে মাগুরা পৌর পৌরসভার পারনান্দুয়ালী এলাকায় ৩ একর জমির উপর মাঝারী শহর উন্নয়ন অবকাঠামো-২ প্রকল্পের আওতায় এলজিইডির অর্থায়নে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে আর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করা হয়নি টার্মিনালটিতে।
office@ukantho.com