প্রিয় ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণে অনিয়ম: অসহায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ
উচ্চকন্ঠ 14-Jul-2025 76
হুমায়ুন কবির, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান ওয়াশ ব্লকের কাজে ব্যাপক ও নিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৮ বিদ্যালয়ে ওয়শ ব্লকে নির্মাণ কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় চরম বিপাকে পড়েছে ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এখন পর্যন্ত মাত্র ১১ টি বিদ্যালয়কে ওয়াশ ব্লকের সম্পন্ন হয়েছে। বাকিগুলোতে নির্মাণ কাজ চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে এ কাজে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যাবহারের অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে।
উপজেলার বেজপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে ওয়াশ ব্লকের কাজ চলমান। সেখানে সিডিউলে থাকা হেবী প্লাস্টিক ডোরের পরিবর্তে ওয়াশরুমে লাগানো হচ্ছে টিনের পাতের দরজা। লাগানো হয়েছে নিম্নমানের ক্রপসিকল দরজাও। এমনকি দ্বিতল ওয়াশ ব্লকের ভবনে প্লাস্টারের কাজ করার পর তা পানি দিয়ে ভেজানো হয়নি।
বেজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শাপলা পারভীন বলেন, ওয়াশ ব্লকের কাজে অনিয়ম হচ্ছে। ঠিকাদার নিম্নমানের ইট এনেছিল কাজ করার জন্য। আমরা ওই ইট তাকে কাজে লাগাতে দেয়নি। অনিয়মের ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জেসমিন আরাকে মুঠোফোনে জানালে তিনি মেজাজ দেখিয়ে বলেন, এই ম্যাডাম, এটা কি আপনার বাড়ির তা, টিনের দরজা না নিলে লিখিত দেন।
ওয়াশ ব্লক নির্মাণ কাজের ' ভাই ভাই ইলেকট্রিক স্টোর', মাগুরা নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সেলিম হোসেন বলেন, নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সত্য নয়। আমি মাত্র ৬ টি বিদ্যালয়ে কাজ করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আমি টিনের শীটে তৈরি দরজা লাগিয়েছি। আপনি উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রাইমারি স্কুলগুলোতে ওয়াশ ব্লকের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার পরিবেশ দারুণভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এর উপর আবার নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী। মাননির্মাণ কাজে মানা হচ্ছে না নির্ধারিত সিডিউল। যে সব বিদ্যালয়গুলোতে ওয়াশ ব্লকের কাজ চলমান ওইসব বিদ্যালয়েহে একদিকে অস্থায়ী ওয়াশরুম ব্যাবহার করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ কিংবা বারান্দায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। এতে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। ওয়াশ ব্লক নির্মাণে অনিয়মের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবগতি করেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি যোগ করেন।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জেসমিন আরা বলেন, ওয়াশ ব্লকে টিনের শীটের দরজা লাগানোর অনুমতি কর্তৃপক্ষ দিয়েছে। বর্তমানে ৫২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং ঠিক কবে নাগাদ কাজ সম্পন্ন হবে এমন প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ কিশোর সাহা বলেন, শিডিউলে উল্লেখিত মালামাল ব্যবহার না করে ওয়াশ ব্লকের কাজে অন্য মালামাল ব্যবহার করার ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেয়। প্রায়ই অভিযোগ আসে টাইলস লাগানোর পরে অনেক বিদ্যালয়ে ওয়াশরুমের দরজা খুলে না। তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, ঠিকাদার এবং ইঞ্জিনিয়ার যদি এক হয়ে যায় তাহলে কাজ বুঝে নেওয় মুশকিল হয়ে যায়। তবে, ব্যাপারটা নিয়ে আমি কথা বলবো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
office@ukantho.com