প্রিয় ঝিনাইদহ
শৈলকুপায় নবজাতক বিক্রির অভিযোগ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে
উচ্চকন্ঠ 08-Jul-2025 148
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: তিনটি প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টে প্রসূতির গর্ভে যজম শিশু থাকার অস্তিত্ব মিললেও সিজারের পর একটি নবজাতক তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যমজ শিশুর একটিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব বরাবর এক লিখিত অভিযোগে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নন্দীরগাতি গ্রামের ইমদাদুল মোল্লা জানান, ২৭ জুন মাগুরা শহরের পিয়ারলেস মেডিকেল সার্ভিসেস এন্ড হাসপাতাল প্রাইভেট ক্লিনিকে তার বোন আরজিনা বেগমকে সিজারের জন্য ভর্তি করা হয়।
আরজিনা বেগমের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষায় স্পষ্টভাবে যমজ সন্তানের অস্তিত্ব দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ২৮ জুন সিজারিয়ানের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি সন্তান দিয়েছে এবং বাকিটা বিক্রি করে দিয়েছেন।
ইমদাদুল মোল্লা জানান, তার বোন গর্ভবতী হলে, গত ১৮ এপ্রিল শৈলকুপার লাঙ্গলবাঁধ বাজারের শান্তনু ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রম করা হয়।
সেখানকার চিকিৎসক শারমিন আক্তার এ্যানি আল্ট্রাসনোগ্রম রিপোর্টে আরজিনা বেগমের গর্ভে যমজ সন্তান ররেয়ছে বলে রিপোর্ট দেন।
গত ২ জুন শৈলকুপার সাহিদা প্রাইভেট হাসপাতালও ২৭ জুন মাগুরা শহরের পিয়ারলেস মেডিকেল সার্ভিসেস এন্ড প্র্ইাভেট হাসপাতালে আরো দুইটি পরীক্ষা করানো হয়। সেখানোও আল্ট্রাসনোগ্রম রিপোর্টে আরজিনা বেগমের গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বলে রিপোর্ট দেন চিকিৎসক ডাঃ সোনিয়া আক্তর মুক্তা ও ডাঃ অরুণ কান্তি ঘোষ। কিন্তু সিজারের পর একটি সন্তান উধাও করে দেওয়া হয়।
এই সন্তান চুরির সঙ্গে ক্লিনিক মালিক ফরহাদ হোসেন, চিকিৎসক তপন রায়, ডাঃ অরুণ কান্তি ঘোষ, ক্লিনিকের ম্যানেজার সেলিম ও ল্যাব ম্যানেজার সাকিল জড়িত বলে মাগুরা সেনা ক্যাম্পে এক লিখিত অভিযোগ দাবী করা হয়েছে।
এদিকে এই সিজারিয়ান অপারেশনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আরজিনা বেগমের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষায় স্পষ্টভাবে যমজ সন্তানের অস্তিত্ব দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সিজারিয়ানের পর চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি সন্তান কি করেছে তার সঠিক ব্যাখ্যা দিচ্ছে না।
বিষয়টি নিয়ে ক্লিনিক মালিক ফরহাদ হোসেন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার ক্লিনিক কোন ভাবেই জড়িত নয়। তিনি কেবল ওটি ভাড়া দিয়েছিলেন। চিকিৎসকরাই ভালো বলতে পারবেন ওই মহিলার গর্ভে যমজ সন্তান ছিল কিনা।
মাগুরা সিভিল সার্জন ডাঃ শামিম কবীর জানান, এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করছে। তদন্তে শেষে বলা যাবে আসলে কি হয়েছিল। তিনি বলেন, তিনজন আল্ট্রাসনোগ্রফির ডাক্তারকে ডাকা হয়েছিল। তারা মেডিকেল টার্মে তাদের বক্তব্য দিয়েছেন।
office@ukantho.com