প্রিয় ঝিনাইদহ
যশোর রুটে ভাড়া নিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবী ছাত্রদের
উচ্চকন্ঠ 05-Jul-2025 53
হোসনে মোবারক তাসিন, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ-কালীগঞ্জ-যশোর রুটে প্রতিদিন যাতায়াত করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়া থাকা সত্ত্বেও তারা প্রতিনিয়তই পরিবহন শ্রমিকদের দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাস হেলপারদের বেপরোয়া ও অবমাননাকর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা।
এই রুটে কালীগঞ্জ থেকে যশোর পালবাড়ি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়া ৩০ টাকা, যা ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ ও যশোর বাস মালিক সমিতির যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে। অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তারা যখন নির্ধারিত ৩০ টাকা ভাড়া দিতে চান, তখন বাসের হেলপাররা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, গালাগাল করেন, এমনকি কখনো কখনো বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন।
একজন শিক্ষার্থী জানান, “আমি একদিন শাপলা পরিবহনে যশোর পালবাড়ি যাচ্ছিলাম। চার্ট অনুযায়ী ৩০ টাকা ভাড়া দিতে চাইলে হেলপার আমার সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। আমি যখন চার্ট দেখাই, তখন সে বলে—‘ওসব ফাও জিনিস আমরা মানি না।’”
এমন পরিস্থিতি শুধু শাপলা পরিবহনেই নয়। গড়াই পরিবহনের কাউন্টার থেকে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তাদের কোনো 'স্টুডেন্ট ভাড়া' নেই। অথচ এই রুটে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন, যাদের অনেকেই নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বারবার এই সমস্যার কথা বাস মালিক ও পরিবহন শ্রমিকদের জানানো হয়েছে। তাঁরা প্রতিবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা বারবার বলেছি—ভাড়া নিয়ে হয়রানি বন্ধ করা হোক। কিন্তু প্রতিবারই শুধু কথা, কোনো বাস্তব পরিবর্তন নেই। আমরা আর কতকাল এই অপমান সহ্য করব?”
তারা স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “কালীগঞ্জসহ পুরো রুটে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীদের চলাচলে এই হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি:
1. শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়া প্রতিটি বাসে দৃশ্যমানভাবে টানানো হোক।
2. পরিবহন হেলপারদের আচরণ নিয়মবহির্ভূত হলে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
3. শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বাস সংখ্যা বাড়ানো ও নির্ধারিত রুটে ন্যায্য ভাড়া নিশ্চিত করা হোক।
4. প্রশাসনের সরাসরি তদারকিতে মনিটরিং টিম গঠন করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হোক।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তারাই অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। অথচ আজ তারাই যদি ন্যায্য ভাড়া দিয়ে বাসে উঠতেও অপমানিত হন, তাহলে এই সমাজ ও রাষ্ট্রের বিবেক কোথায়?
তাদের প্রশ্ন—বাংলাদেশকে যদি ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্ত করা যায়, তবে ‘শাপলা’, ‘গড়াই’ ও ‘রুপসা’ পরিবহনের সিন্ডিকেট থেকে মুক্তি কি এতটাই কঠিন?
office@ukantho.com