অন্যান্য
নড়াইলে নদী ভাঙন : শেষ আশ্রয়ও বিলীনের আশঙ্কা
উচ্চকন্ঠ 30-Jun-2025 29
কাজী আতিকুর রহমান, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: বর্ষাকাল আসলেই নড়াইলের কালিয়ার মধুমতী নদী তীরবর্তী মানুষের পূর্বপুরুষের স্মৃতি বিজড়িত ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া নতুন অধ্যায়। ঘরবাড়ি ও ফসলের জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে অসহায়ের মতো তাকিয়ে দেখতে হয় চরমধুপুর গ্রামের মানুষের।
নদীর গর্জন তুলে ভাঙ্গা গড়ার দীর্ঘ দুই যুগ ধরে,নদী ভাঙনের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চরমধুপুর গ্রাম। একের পর এক ভিটেমাটি, ফসলি জমি আর স্বপ্ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে শত শত পরিবার সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছে। শেষ আশ্রয়টুকুও চোখের সামনে নদীর পেটে চলে যাচ্ছে, অথচ প্রতিকারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ ছিল না বহু বছর ধরে।
শনিবার (২৮ জুন) সকালে নড়াইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সায়েম রাশেদ জরিপ কাজ পরিচালনা করেন। তিনি নদীর গভীরতা নির্ণয়সহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সায়েম রাশেদ জানান, ‘আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জরিপ প্রতিবেদন সাবমিট করা হবে। এরপরই ভাঙন রোধে সম্ভাব্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।’
জরিপকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন কালিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান চৌধুরী, সদস্য মোল্লা রাসেল এবং ১০ নং পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম। তারা বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ভাঙনকবলিত এই গ্রামের মানুষের শেষ সম্বল রক্ষায় আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করছি।’
চরমধুপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৬৫) বলেন, ‘দুই যুগ ধরে কতবার নদী ভাঙল, হিসাব নেই। শেষ যে ভিটেটা আছে সেটাও বাঁচবে কি না জানি না। এবার যদি কিছু হয়, তবেই শেষ আশাটুকু জিইয়ে থাকবে।’
এদিকে ভাঙনপ্রবণ এলাকাজুড়ে আতঙ্ক আর ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত টেকসই নদী তীর রক্ষার স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
office@ukantho.com