প্রিয় ঝিনাইদহ
জোর পূর্বক জমিতে সরকারি ভবন নির্মাণের অভিযোগ: অভিযোগের তীর সাবেক এমপি আনারের দিকে
উচ্চকন্ঠ 23-Jun-2025 50
বসির আহম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চ আদালতে মামলা চলমান ও জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করে জোরপূর্বক ব্যক্তি মালিকানার জমিতে সরকারি অফিস নির্মাণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন করেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাশপুর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম। এসময় তার ভাই উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ শহরের আড়পাড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে আমাদের তিন মালিকের ওয়ারেশ হিসেবে ১৭ জন মালিকের এক দাগে ১২৪ শতক জমি রয়েছে। যা আমরা মালিকগণ পৃথকভাবে ভোগ দখল করে আসছি। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে রেজিষ্ট্রি অফিস নির্মাণের জন্য এই জমির মধ্যে থেকে ২৪ শতক জমি গোপনে অধিগ্রহন করেন। এক পর্যায়ে আমাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে মর্মে চিঠি দিয়ে টাকা গ্রহনের জন্য বলা হয়। আমরা এটার প্রতিবাদ করি এবং জেলা প্রশাসকের কাছে গোপনে জমি অধিগ্রহনের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে টাকা গ্রহনের জন্য চাপ সৃষ্ঠি করে। আমরা টাকা গ্রহন না করে আদালতের আশ্রয় নিই। মামলাটি এখনও আদালতে চলমান রয়েছে। এদিকে আদালতে মামলা চলমান থাকায় অধিগ্রহণ কর্মকর্তারা জমি অধিগ্রহণ গেজেটে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হন। এখনও জমি অধিগ্রহণ সম্পন হয়নি, গ্রেজট প্রকাশও করা হয়নি। তারপরও আমাদের জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণ শেষে এখন তা ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সেই সময়ের স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার জোর করে আমাদের জমি অধিগ্রহণ করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগ করেন। জমিটি অধিগ্রহণ করা সমিচিন নয় মর্মে একটি রির্পোট দেওয়ায় কালীগঞ্জে কর্মরত একজন উপ-সহকারী ভুমি কর্মকর্তাকে বদলী করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমাদের এই জমির মধ্য থেকে প্রায় ১০ শতক ইতোমধ্যে সড়ক বিভাগ অধিগ্রহণ করেছেন। সেই একই জমি থেকে আরেক দফা অধিগ্রহন করা হচ্ছে যা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী। সরকারের নিয়মে আছে এক জমি দুই দফা বা দুই সংস্থা অধিগ্রহণ করতে পারবে না। অন্যদিকে রেজিষ্ট্রি অফিসের জন্য ২৪ শতক জমি অধিগ্রহণ করে আমাদের প্রায় ৩৩ শতক জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে। সেই সময়ের সংসদ সদস্য আনার ও রেজিষ্ট্রি অফিসের কথিত দলিল লেখক সমিতির সেক্রেটারী নাসির উদ্দিন লোকজন দিয়ে রাতের আধারে আমার মার্কেট ভেঙ্গে দিয়ে জায়গাটি ফাঁকা করে সেখানে ভবন নির্মাণ করতে বাধ্য করেন। গত ৫ আগষ্টের পর এই ভবনের সকল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন সেটি আবার ব্যবহারের চেষ্টা করা যাচ্ছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে গেজেট প্রকাশের পূর্বেই ব্যক্তি মালিকানার জমিতে পাঁকা ঘর ব্যবহার না করা করার দাবি করেন।
office@ukantho.com