বুধবার | ২৯ জুলাই ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

মহেশপুর সীমান্তে আকালে বাহিনীর অস্ত্রের ঝনঝনানি: চোরাচালান ও আধিপত্য বিস্তারে গড়ে উঠেছে একাধিক গ্রুপ

উচ্চকন্ঠ   29-May-2025   51

Photo

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে এখন অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে। চোরাচালান ও সীমান্তে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অস্ত্রধারী একাধিক গ্রুপ। অধরা এই গ্রুপগুলো স্বার্থের দ্বন্দে নিজেরা নিজেরা খুনোখুনি করছে। ফলে মহেশপুর সীমান্ত এখন আর শুধু সীমান্ত নয়, অপরাধের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মহেশপুর দিয়ে আশংকাজনক হারে বাড়ছে অবৈধ অনুপ্রবেশ, গরু পাচার, সোনা ও মানব চোরাচালান এবং জমজমাট মাদক ব্যবসা। সীমান্ত এলাকায় এই চোরাচালানের সঙ্গে যেমন সেখানকার চিহ্নিত শাতাধীক দুর্বৃত্তরা জড়িত, তেমনি জড়িত কতিপয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, বিজিবি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। ফলে মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে মাদক, গরু, সোনা, অস্ত্র ও মানব চোরাচালান বন্ধ হয় না।
সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, মহেশপুর সীমান্তে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত এমন ৮৪ জন বাংলাদেশী ও ১১ জন ভারতীয় চোরাকারবারী রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় রয়েছে এদের ভিন্ন ভিন্ন অস্ত্রধারী গ্রুপ। স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ে এই গ্রুপের হাতেই ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি খুন হয়েছিল বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শামিম ও মন্টু। কথিত আছে সম্পর্কে চাচা ভাতিজা এই দু’জনকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ আকালে ও ইব্রাহীম।
অপরদিকে ২০১৮ সালে গরু চোরালানকে কেন্দ্র করে গলাকেটে হত্যা করা হয় মহেশপুর উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের ইদু ফকিরের ছেলে আইনশৃংখলা বাহিনীর কথিত সোর্স ওয়াসিমকে। সে সময় ওয়াসিম হত্যাকান্ডের নেপথ্যে গরু চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য শ্যমকুড় গ্রামের মোমিন, মনি মেম্বর ও সাইদুরের নাম উঠে আসে। সেই মামলা এখনও হিমাগারে।
সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে যেসব অবৈধ জিনিস পাচার হয়, তার নিয়ন্ত্রন রয়েছে আবুল কাশেমের ছেলে তরিকুল ইসলাম ওরফে আকালে, টেনার ছেলে ইব্রাহীম ওরফে ইব্রা, আব্দুল জলিলের ছেলে চঞ্চল ও শহিদুলের ছেলে মোমিন।
অস্ত্র পরিচালানায় ভারতে বিশেষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত তরিকুল ইসলাম ওরফে আকালে ডাবল মার্ডার করে ভারতে পালিয়ে যায়। সেখানে সে গ্রেফতারও হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে দিনাজপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আকালে। এদেশে এসেও সে গ্রেফতার হয়। উচ্চ আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে আবারো নিজ পেশায় ফিরে গেছে আকালে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, এলাকায় এসে জোড়া খুনের মামলা ২২ লাখ টাকায় মিমাংশা করার জন্য প্রস্তাব করে আকালে। কিন্তু এই হত্যা মামলা মিমাংশা করতে রাজি হয়নি নিহত’র পরিবার। মামলা মিটাতে রাজি না হওয়ায় আবারো খুনোখুনির ছক কষে আকালে ও তার দলবল। গত ১১ মে রাতে হত্যা মামলার বাদী রফিকুলকে গুলি করে আকালে ও ইব্রা। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে মটরসাইকেল ফেলে দৌড় মারে রফিকুল। এ সময় ঘাস নিয়ে মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন রফি।
প্রত্যক্ষদর্শী বাঘাডাঙ্গা গ্রামের রিজিয়া খাতুন ও ফিরোজা বেগম জানান, ঘটনার দিন রাতে গোলাগুলির শব্দ শুনে তারা বাইরে বেরিয়ে দেখেন, আকালে ও ইব্রা পালিয়ে যাচ্ছে। তারাই রফিকে গুলি করে।
একই কথা জানান, নাসির উদ্দীন ও সোনিয়া নামে দুই গ্রামবাসি। তাদের ভাষ্যমতে, মামলা তুলে না নেওয়ায় সীমান্তের আতংক আকালে মামলার বাদীকে হত্যার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ নিয়ে তাদের পরিবার খুবই উদ্বিগ্ন। যেকোন সময় রফিকুল খুন হতে পারেন এই শংকা পরিবারের।
বাঘাডাঙ্গা বাজারের আমিরুল ইসলাম জানান, গ্রামে গোলাগুলি হলো। অবৈধ অস্ত্রধারীরা সীমান্তের এপার ওপার করছে, কিন্তু পুলিশ বা বিজিবির কোন তৎপরতা নেই। এতে মানুষ নানা রকম সন্দেহ করছে।
সরজমিন সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ঈদুল আজহা সামনে রেখে মহেশপুরের খোসালপুর, বাঘাডাঙ্গা, কুমিল্লাপাড়া ও নেপা দিয়ে এখন গরু পাচার হচ্ছে। সলেমানপুরের আব্দুস সোবাহান, বাঘাডাঙ্গার রবিউল ও জামাল এই সিন্ডিকেট পরিচালানা করছে। সঙ্গে আছে সীমান্তের ৬টি ইউনিয়নের কতিপয় ইউপি মেম্বর।
অভিযোগ উঠেছে তেলটুপি বরণবেড়ে এলাকার চিহ্নিত দালাল সালাহউদ্দীন সীমান্তের চোরাচালান ঘাটগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের দৈনিক চুক্তি ভিত্তিতে টাকা দিচ্ছেন। মহেশপুরের সাবেক এক ওসিকে তিনি মাসিক টাকা দিয়ে চোরাচালান ঘাটগুলো নিয়ন্ত্রন করতেন। গোয়েন্দাদের এমন তথ্যের ভিত্তিত্বে সেই ওসিকে বদলীও করা হয়েছে।
সরকারের একটি গোয়েন্দা বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, ভারতের নদীয়া জেলার ধানতলা থানার সিলবাড়ি গ্রামের ইয়ারুল, একই গ্রামের জিয়ারুল, হাঁসখালী থানার রামনগর গ্রামের ওয়াসিম, সাহেব আলী, জাকির, আজগার মন্ডল, মুজাফ্ফর, মতিবুল, খোসালপুর বর্ডার এলাকার আলী হোসেন, কুমারি গ্রামের মান্য বিশ্বাস ও পাপস বিশ্বাস বাংলাদেশী চোরাকারবারীদের সর্বক্ষন যাতায়াত, বাসস্থান ও বিএসএফ’র সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের সহায়তা দিচ্ছেন বলে কথিত আছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক আগেই জানিয়েছেন, সীমান্তে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে বিজিবি অভিযান পরিচালনা করছে। যে কারণে অতিতের চেয়েও এখান বেশি বেশি মাদক ধরা পড়ছে। সেই সঙ্গে ধুড় পাচার প্রতিরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।
সীমান্তে অস্ত্রধারী প্রুপ নিয়ে মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, বাঘাডাঙ্গা গ্রামে গোলাগুলির ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অপরাদীদের গ্রেফতারে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অস্ত্রধারী প্রুপটি পলাতক থেকে একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সন্ত্রাসী তরিকুল ওরফে আকালের সন্ধান দিতে সীমান্তের মানুষের সহায়তা কামনা করেছেন।

office@ukantho.com


Photo

শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতনে স্বামী সংসার করতে পারছেন না দুই গৃহবধূ

কাজী আতিকুর রহমান, নড়াইল জেলা প্রতিবেদক: শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতনে...

Photo

ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের সুধী সমাবেশ

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: ন্যায় ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের...

Photo

মহেশপুরে বিজিবি’র অভিযানে ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার সহ ৫ বাংলাদেশী আটক

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক তিনটি...

Photo

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরু অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

এফএনএস: চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ৩১টি মামলার আসামি নুরে...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত