প্রিয় ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জে সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে ৩৯১ জন শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও বোর্ড পরীক্ষা দেওয়ায় চরম ফলাফল বিপর্যয়
উচ্চকন্ঠ 02-Nov-2026 10
হুমায়ুন কবির, নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রী কলেজে ২০২৬ সালের এইচ এস সি পরীক্ষার ফলাফলে স্মরণকালের সর্বোচ্চ ফলাফল বিপর্ঘয় ঘটেলে। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এরকম ফলাফল বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সুধী সমাজ ।একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুই বছর পড়াশোনার পর কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাকে আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পাশাপাশি মানসিক চাপে অনেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে এসব শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে। উপজেলার ১২ টি কলেজে সর্বমোট ১৭৪৮ জন শিক্ষার্থী ২০২৬ সালে এইচ এস সি পরীক্ষার অংশ নেয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ থেকে অংশ নেয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কলেজাটির ৬৬৩ জন শিক্ষার্থী বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৭৭ জন কৃতকার্য এবং ৩৮৬ জন অকৃতকার্য হয়। অর্থাৎ কৃতকার্যের হার ৪১.৭৮ শতাংশ। আর জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থী। ৩৮৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির লেখাপড়ার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলাফলের চরম বিপর্যয়ের নেপথ্যের কারণ খুজতে গিয়ে জানা যায়, ২০২৬ সালে এইচ এস সি পরীক্ষায় কলেজটির দ্বাদশ শ্রেণীতে সাধারণ এবং কারিগরি শাখার মোট ৭৭৩ জন শিক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে মানবিক বিভাগে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৬৭ জন। যার মধ্যে সকল বিষয়ে কৃতকার্য হয় মাত্র ৭৫ জন। অর্থাৎ কৃতকার্যের হার ১৬.২৪ শতাংশ অকৃতকার্য হার ৫৭.৯১ শতাংশ এবং এ বিভাগে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৭৪% ১৫ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে নির্বাচনী পরীক্ষায় ১৩৯ জন অংশগ্রহণ করে সব বিষয়ে ৪৬ জন কৃতকার্য হয়। এবং কৃতকার্যের হার ৩১.৯৪ শতাংশ, অকৃতকার্যের হার ৬৪. ৫৮ শতাংশ। অনুপস্থিতির হার ৩০.৪৭ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় মোট ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন সকল বিষয়ে কৃতকার্য হয়। এ বিভাগে কৃতকার্যের হার ৩০ শতাংশ এবং অকৃতকার্যের হার ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ বিভাগের ৫২০ জন নির্বাচনী পরীক্ষা অংশ নিয়ে ৩৯১ জন বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। আর এ বিপুল সংখ্যক অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেয়। যার প্রভাব পড়ে চূড়ান্ত ফলাফলে । শুধু তাই নয়; ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটির শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান না করানো, শিক্ষার্থীদের নিজেস্ব প্রাইভেট সেন্টারে টানা, অভিভাকদের সাথে যোগাযোগ না রাখা,শিক্ষকদের একাগ্রতা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তরিকতার অভাব এবং পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি অবহেলা,শিক্ষকদের মধ্যে অভ্যন্তরী রাজনীতিসহ নানা কারণে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিরাট বিপর্যয় ঘটে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রক্ষেসর চিন্ময় বাড়ৈ কলেজের লেখাপড়ার পরিবেশ ফেরানোর ব্যাপারে চরম উদাসীন, এমনকি তিনি নিয়মিত কলেজেও উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবুল হোসেন নামে এক অভিভাবকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার সন্তান মাহতাব উদ্দিন কলেজ থেকে এ বছর পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হলেও ফলাফল সন্তোষজনক না।বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটিতে লেখাপড়ার কোনো পরিবেশই নেই। এভাবে চলতে থাকলে অভিভাবকরা ভবিষ্যতে তাদের সন্তানদেরকে আর এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করবে না। আমার কাছে মনে হয়েছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকরা ভালো ফলাফল করার ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন। আজ যদি শিক্ষকদের জবাবদিহিতা থাকতো তাহলে হয়তো আরো ভালো ফলাফল হতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পক্ষে কতিপয় শিক্ষক সহযোগিতা করে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য। আবার বেশ কিছু শিক্ষক আছেন যারা শ্রেণিকক্ষে ভালোভবে না পড়িয়ে প্রাইভেটে পাঠদান বেশি করান। এমনকি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও আশঙ্কাজনক হারে কম। মোটকথা কলেজের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রুপে এলোমেল। আর এসব কারণেই ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।
সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা যখন কলেজটিতে ভর্তি হয়েছিল তখন কলেজে নানা ধরনের সমস্যার কারণে তাদের পাঠদান বেশ ব্যাহত হয়। ফলাফল বিপর্যয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের দায় আছে বলেও আমি মনে করি। তবে আগামীতে আমরা চেষ্টা করব বর্তমান অবস্থা কাটিয়ে সর্বোচ্চ ভালো ফলাফল করার।
office@ukantho.com