প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে ভিটেবাড়িহীন মিশন আচার্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র হস্তান্তর
উচ্চকন্ঠ 08-Oct-2026 11
বসির আহমেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: সব জটিলতা ও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন ঝিনাইদহের আলোচিত যুবক মিশন আচার্য। বুধবার সকালে ঝিনাইদহে তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটল মিশন আচার্যের। সরকারি শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
মিশন আচার্য ঝিনাইদহ পৌর শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। নিজের নামে কোনো স্থায়ী ভিটেবাড়ি বা জমি না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে জটিলতায় পড়েন তিনি। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও পুলিশি ভেরিফিকেশন পর্যায়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তার নিয়োগ আটকে যায়।
জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিকÑদুই ধাপেই উত্তীর্ণ হন মিশন। সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে যখন নিয়োগ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তখনই ভেরিফিকেশনে তার স্থায়ী ঠিকানা না থাকার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও চাকরিতে যোগদানের অনিশ্চয়তায় পড়েন তিনি।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের। পরে তিনি মিশন আচার্যের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে আলোচনা হলে মিশনের নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সব জটিলতা নিরসন করে মিশন আচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অবশেষে বুধবার তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
নিয়োগপত্র পাওয়ার পর মিশন আচার্য বলেন, শিক্ষক হওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। পরীক্ষার সব ধাপ পার হওয়ার পরও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় যখন নিয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখায় আমি আজ নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
office@ukantho.com