প্রিয় ঝিনাইদহ
শৈলকুপায় দখল-ভরাটে অস্তিত্ব সংকটে অর্ধেক খাল পানি নিষ্কাশন ব্যাহত, বিপাকে কৃষক
উচ্চকন্ঠ 15-Aug-2026 43
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংরক্ষণের অভাব এবং অবৈধ দখল-ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশন ও সেচ খালগুলোর অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে। খালের পাড়ের প্রভাবশালী ও স্থানীয় কিছু মানুষ খাল ভরাট করে ফসল চাষ, ঘাস লাগানো এবং চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, একই সঙ্গে কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন সেচ প্রকল্পের পানি থেকেও। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে ৫০ ভাগ খালই প্রায় অস্বিত্বহীন অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলার লক্ষণদিয়া গ্রামের একটি ১২ মিটার প্রশস্ত পানি নিষ্কাশন খাল বর্তমানে প্রায় নালায় পরিণত হয়েছে। দুই পাশে ফসলের ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে সরু রেখার মতো বয়ে চলা খালটি এখন আর পানি নিষ্কাশনের কার্যকর মাধ্যম নয়। বরং বর্ষাকালে খালের পানি উপচে পাশের নিচু জমিতে ঢুকে ফসলের ক্ষতি করছে।
শুধু লক্ষণদিয়া নয়, বোয়ালিয়া নিষ্কাশন খাল, পাচপাকিয়া নিষ্কাশন খাল, হাটফাজিলপুর পশ্চিমপাড়া সেচ খালসহ উপজেলার বহু খাল এখন একই অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে পাশের জমির মালিকরা খালের মাটি কেটে সমান করে জমির সঙ্গে একীভূত করেছেন। কোথাও খালের ভেতরে চাষাবাদ হচ্ছে, কোথাও আবার সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে গ্রামীণ চলাচলের পথ হিসেবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে পানি সরতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হয়। অন্যদিকে সেচ খাল সংস্কার না থাকায় জি-কে সেচ প্রকল্পের পানিও সময়মতো পৌঁছায় না কৃষকের জমিতে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন খাল খনন ও সেচ খাল সংস্কারের দাবি জানান।
তবে খাল দখলের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, অন্যদের দেখাদেখি তারাও সরকারি খাল ভরাট করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করছেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, খালগুলোর বেহাল অবস্থার বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে। দ্রুত খাল খনন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপা উপজেলায় মোট ৮৯টি পানি নিষ্কাশন খালের দৈর্ঘ্য ২৫৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ১২ থেকে ২০ মিটার। এছাড়া উপজেলার ৬৫টি সেচ খালের মোট দৈর্ঘ্য ২১৪ দশমিক ৬০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ পানি নিষ্কাশন খাল অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে এবং সমপরিমাণ খাল দখলে রয়েছে। অন্যদিকে সেচ খালের প্রায় ৫০ শতাংশ অস্তিত্বহীন এবং ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খাল বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় তিন দশক ধরেই এসব খাল দখল ও ভরাটের ঘটনা চলমান রয়েছে।
office@ukantho.com