রবিবার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

জুলাইয়ে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম সেলের সাফল্য ১৮ আসামি গ্রেপ্তার, ১০৬ মোবাইল ও ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা উদ্ধার

উচ্চকন্ঠ   11-Aug-2026   33

Photo

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহে জুলাই মাসে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার, চোরাই ও ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধার এবং সাইবার অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। এক মাসে বিভিন্ন মামলায় ১৮ আসামিকে গ্রেপ্তার, ১০৬টি মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে সাইবার বুলিং সংক্রান্ত ২৮টি অভিযোগ ও জিডি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এসব সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান (পিপিএম-সেবা)-এর পক্ষ থেকে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসে পর্নোগ্রাফি, হত্যা, দস্যুতা, অপহরণসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযান চালিয়ে ১৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা ১০৬টি মোবাইল ফোন এবং এমএফএসের মাধ্যমে প্রতারণা বা অন্যভাবে হাতিয়ে নেওয়া ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সেলের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে শৈলকুপা থানার একটি পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি গ্রেপ্তার। ভুক্তভোগীর নগ্ন ছবি ধারণ করে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি করার ঘটনায় প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে পর্নোগ্রাফি তৈরিতে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার একটি হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে সাইবার ক্রাইম টিম প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে মাগুরার শালিখা ও যশোরের বাঘারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
কোটচাঁদপুর থানার সাব্দারপুর ফাঁকা মাঠে কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক দস্যুতার ঘটনা ঘটলেও কোনো আসামিকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে সাইবার ক্রাইম টিম প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে। এরপর রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার পাগলাকানাই এলাকায় হোটেল কর্মী খুশিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা হত্যা করে রেখে যাওয়ার ঘটনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সাইবার ক্রাইম টিম। প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের শনাক্ত করার পর সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এদিকে ঝিনাইদহ সদর থানার বংকিরা মাঠে ১৪ বছর বয়সী এক ইজিবাইক চালককে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাস্তা থেকে দূরে মেহগনি বাগানে ফেলে রেখে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাইবার ক্রাইম টিম প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ঝিনাইদহ সদর থানার একটি অপহরণ মামলায় খুলনা ও ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার এবং একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কালীগঞ্জ থানার একটি দস্যুতা মামলায়ও একজন আসামিকে ঝিনাইদহ শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের জুলাই মাসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো বিভিন্ন ঘটনায় হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া ১০৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা। পাশাপাশি এমএফএসের মাধ্যমে প্রতারণা বা অন্যভাবে হাতিয়ে নেওয়া ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা উদ্ধার করে মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সাইবার বুলিং সংক্রান্ত ২৮টি অভিযোগ ও জিডি নিষ্পত্তি করা হয়।
প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রচলিত অপরাধের রহস্য উদঘাটন, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীদের হারানো সম্পদ উদ্ধারে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসব কার্যক্রম প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জুলাই মাসের ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মোসফেকুর রহমানসহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান (পিপিএম-সেবা) বলেন, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ দমন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

office@ukantho.com


Photo

শৈলকুপায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আসাদ: এক আবেগঘন মুহূর্ত

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে নবনির্বাচিত...

Photo

কালীগঞ্জে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় পৃথক দুই মামলা, আসামি ২-৩ শত

হাবিব ওসমান, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরু চোর সন্দেহে...

Photo

ঝিনাইদহে দিনব্যাপী কারাতে সেমিনার ও বেল্ট পরীক্ষা

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘নারীদের আত্মরক্ষার্থে কারাতে হোক...

Photo

জয়পুরহাটে যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

এফএনএস: জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে পূর্ব শত্রæতার জের ধরে ইয়ানুল হোসেন...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত