প্রিয় ঝিনাইদহ
পুলিশ সেজে ওয়ারেন্টের ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধের ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
উচ্চকন্ঠ 11-Aug-2026 24
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: পুত্রশোকে কাতর ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ বাবার বিচার পাওয়ার আকুতিকে পুঁজি করে পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করে দেওয়ার কথা বলে ওই বৃদ্ধের কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামে।
ভুক্তভোগী সাব্দার মণ্ডল (৬০) উপজেলার তালসার পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত পাচু মণ্ডলের ছেলে। প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি বিচার চেয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে সাব্দার মণ্ডলের ছেলে হাবিবুর রহমান (টুল্লু) নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যার মামলা নম্বর ৪৩৯/১৮। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তবে মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাব্দার মণ্ডলের অভিযোগ, গত ২ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩৫ মিনিটে তাঁর মোবাইল ফোনে ০১৯৬০-৯৪০৬৫৫ নম্বর থেকে একটি কল আসে। ফোনকারী নিজেকে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে জানায়, মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে ৫০ হাজার টাকা লাগবে।
ছেলের হত্যার বিচার হবে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হবে—এমন আশ্বাসে প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করেন সাব্দার মণ্ডল। পরে তিনি একটি এনজিও থেকে চড়া সুদে ২৪ হাজার টাকা ঋণ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ১ নম্বর বিবাদী তরিকুল ইসলামের হাতে তাঁর স্ত্রী ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ওই টাকা তুলে দেন তিনি।
কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও মামলার আসামিদের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখে সাব্দার মণ্ডলের সন্দেহ হয়। পরে তিনি ওই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পান। তখন তাঁর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যে, আসামিপক্ষের লোকজন পরস্পর যোগসাজশ করে পুলিশ পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিতে গত ১০ আগস্ট অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামের বাড়িতে গেলে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তালসার বাজারে স্থানীয় জনতা তাকে ঘিরে ধরলে তোপের মুখে সে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তরিকুলের মা আগামী ১৭ আগস্ট টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেন।
কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনসারুল্লাহ বলেন, অভিযোগটি তাঁরা পেয়েছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা একটি পরিকল্পিত অপরাধ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুত্রহারা এক বাবার বিচার পাওয়ার আকুতিকে কাজে লাগিয়ে এমন প্রতারণার ঘটনায় কোটচাঁদপুর এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
office@ukantho.com