শুক্রবার | ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহে বিএনপি নেতার বাড়িতে সরকারি সার-ধানবীজের মজুত, পরবর্তীতে কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কৃষকদের মাঝে বিতরণ

উচ্চকন্ঠ   08-Jul-2026   57

Photo

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিব্দেক: ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় কৃষি প্রণোদনার সরকারি সার ও ধানবীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ব্যক্তিগত বাড়িতে মজুত রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাড়ি থেকেই তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে সরকারি সার ও ধানবীজ বিতরণ করেন। তবে সরকারি কৃষি উপকরণ ব্যক্তিগত বাড়িতে কেন সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হন। পরে কৃষি বিভাগকে খবর দিলে ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরকারি তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে সার ও ধানবীজ বিতরণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কৃষি উপকরণ নির্ধারিত বিতরণস্থলে না এনে ব্যক্তিগত বাড়িতে সংরক্ষণ করা সরকারি নিয়ম ও বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ্যে না এলে হয়তো সরকারি উপকরণ সেখান থেকেই বিতরণ করা হতো।
ঘটনার বিষয়ে ভ্যানচালক জাহিদ হোসেন জানান, সোমবার তাকে শৈলকূপা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার আনার জন্য ডাকা হয়। সেখানে লিটন নামে এক ব্যক্তি একটি কার্ডের মাধ্যমে তার ভ্যানে ৮ বস্তা সার, ২২ প্যাকেট ধানবীজ এবং কিছু গাছের চারা তুলে দেন। পরে তিনি সেগুলো আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছে দেন।
উপজেলা কৃষক দলের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল্লাহ মণ্ডল এর আগেও সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ বাড়িতে এনে রাখতেন। কিছু বিতরণ করলেও বাকিগুলো বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি সার ও ধানবীজ দেখতে পান। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এসে সেগুলো কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মালিথা বলেন, ওয়ার্ড সভাপতির বাড়িতে সরকারি সার ও ধানবীজ কেন রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান থেকেই এসব উপকরণ বিতরণ হওয়ার কথা। খবর পেয়ে তারা সেখানে যান এবং পরে কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি এসে বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ মণ্ডল বলেন, কৃষি অফিস থেকে সার ও ধানবীজ এনে তার বাড়িতে রাখা হয়েছিল। সেদিন বৃষ্টির কারণে বিতরণ সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সরকারি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
মির্জাপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাকিব হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সরকারি তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে সার ও ধানবীজ বিতরণ করেন। তবে সরকারি কৃষি উপকরণ ব্যক্তিগত বাড়িতে সংরক্ষণের অনুমতি ছিল কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সরকারি কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিষয়টির যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

office@ukantho.com


Photo

খুলনায় গুলির পর যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

এফএনএস: খুলনায় গুলি করে আহতের পর এক যুবলীগ কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে...

Photo

কারণে-অকারণে অবরোধ, ধৈর্যের সীমা শেষ করে দিচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

এফএনএস: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব)...

Photo

ঝিনাইদহ পুলিশ লাইন্স লাইন্স মডেল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ পুলিশ লাইন্স লাইন্স মডেল...

Photo

৪০ রোহিঙ্গাকে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

এফএনএস: ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আন্দামান...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত