বুধবার | ২৯ জুলাই ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

কালীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী আফেলা বেগমের মানবেতর জীবন যাপন

উচ্চকন্ঠ   22-Jun-2026   43

Photo

হুমায়ুন কবির, নিজস্ব প্রতিবেদক: মানসিক প্রতিবন্ধী বেকার ছেলেটা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনোরকম বেচে আছি। কীসের মুক্তিযোদ্ধা কোঠা, তদবির আর টাকা ছাড়া ছেলে মেয়েদের চাকরি দেবে কিডা ? অনেক মুক্তিযোদ্ধারা বসবাসের জন্য ঘর পেয়েছেন, আমার কপালে মাথা গোজার একটি ঠাঁইও হলো না – চরম ক্ষোভ আর দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে কথাগুলো বলছিলেন একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী আফেলা বেগম।
কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলী।২০০২ সালে তার মৃত্যুর পর ২ যুগ ধরে বিধবা স্ত্রী আফেলা বেগম বেকার ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছোট ছেলে ও কৃষি দিনমজুর ছেলের সংসারের ঘানি টানছেন। কখনো খেয়ে কখনো না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে পরিবারটির। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে বসতবাড়ি করে দেয়া হলেও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলীর পরিবার এ সুবিধা পাননি। বর্তমানে তার স্ত্রী ঘরের অভাবে দুর্বিসহ জীবন যাপন করায় ক্ষোভ এলাকাবাসীরও।
আলেফা বেগম জানান, ‘স্বামী জীবিত থাকতে ড্রাইভারি করে কোনোরকম তাদের সংসার চলতো। উপার্জনের একমাত্র এই ব্যক্তির ২০০২ সালে মৃত্যু হলে দু’চোখে অন্ধকার নেমে আসে আমার । ধীরে ধীরে ছেলে-মেয়েরা বড় হতে থাকলে বেড়ে যায় সংসারের খরচ। নামেমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেলেও বড় সংসারের ভার বইতে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে । তিন ছেলের একজন অসুস্থ, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী এবং আরেকজন কৃষি দিনমজুর। মেয়েরা আছে যার যার সংসারে। ছেলে মেয়েদের অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অভাব অনটনে দিন কাটছে আমার । তাই সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার পরিবারের জন্য যদি একটি সরকারি ঘর করে দেওয়া যায় তাহলে আমার বসতের কষ্টটা অনেকাংশে দূর হয়।
পারিবারিক ও মুক্তিযোদ্ধা সনদ সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে আনসার আলী ১৯৭১ সালে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট তালিকায় তার নামটি রয়েছে ৭৭৭ নম্বরে। ৮ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন স্থানে তিনি একাধিক সম্মূখযুদ্ধসহ বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। ২০০২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ চার মেয়ে ও তিন ছেলে রেখে যান।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলীর স্ত্রী টিনের বেড়া দিয়ে বানানো ভাঙাচোরা ছোটো ঘরে কষ্টে বসবাস করছেন। অর্থের অভাবে সব ছেলে-মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করতে পারেননি তিনি ।যে কারণে সংসারে ফেরেনি সচ্ছলতা। আবার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেও সরকারি অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত তার পরিবার।
এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো.সেকেন্দার আলী বলেন, পরিবারটি খুব অসহায় অবস্থায় রয়েছে আমি জানি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ঘরের জন্য একটি লিখিত আবেদন লাগবে। আফেলা বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করবো।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন,অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সরকারি ঘরের জন্য আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে। ওই পরিবারটি দ্রুত একটি লিখিত আবেদন করুক। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখে তার কষ্ট লাঘবের জন্য চেষ্টা করব।

office@ukantho.com


Photo

ছাত্রদের ওপর হামলায় জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা

এফএনএস: গাজীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের ওপর হামলায় জড়িত আওয়ামী...

Photo

মেসে ঝুলন্ত ছিল জবি ছাত্রীর নিথর মরদেহ!

এফএনএস: রাজধানীর পুরান ঢাকার কাঠের পুলের একটি ছাত্রী মেস থেকে সাবরিনা...

Photo

কালীগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে শিশু নিখোঁজ: দুইদিনেও সন্ধান পায়নি ডুবুরি দল

তারেক মাহমুদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পানিতে লাফ দিয়ে...

Photo

বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে একযোগে কাজ করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

এফএনএস: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত