শুক্রবার | ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

একই চেয়ারে সাত বছর! কালীগঞ্জ ইউএনও অফিসে যুথিকা বিশ্বাসের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য

উচ্চকন্ঠ   21-Jun-2026   93

Photo

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিতে তিন বছর পর পর বদলির স্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তার যেন কোনো নিয়মই খাটছে না। কোনো এক অদৃশ্য খুঁটির জোরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) যুথিকা বিশ্বাস গত সাত বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় একই চেয়ার আঁকড়ে থাকার সুবাদে তিনি অফিসটিতে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব একচ্ছত্র সিন্ডিকেট। তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ফাইল আটকে রেখে কোটি টাকার ফাইল বাণিজ্যেও মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের নানা অভিযোগও উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, যুথিকা বিশ্বাস ১৯৯৯ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে কালীগঞ্জে পদায়নের পর ২০১৭ সালে নিয়ম অনুযায়ী তাকে পার্শ্ববর্তী কোটচাঁদপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে তিনি পুনরায় কালীগঞ্জে ফিরে আসেন। পরে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে পদোন্নতি পেয়ে একই কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। আর সেই থেকে আজ অবধি তাকে আর কেউ নাড়াতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ দাফতরিক ফাইল ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজ গ্রাম মহাদেবপুরের অন্তত তিনজনকে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে মাস্টাররোলে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কোনো সরকারি নিয়োগপত্র ছাড়াই অমিত বিশ্বাস নামে এক বহিরাগত ব্যক্তি ইউএনও কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও কম্পিউটার-সংক্রান্ত কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে যুথিকা বিশ্বাসের প্রভাবে সুবোধ বিশ্বাসকে ইউএনওর গাড়িচালক এবং অলিভ বিশ্বাসকে উপজেলা মৎস্য অফিসে মাস্টাররোলভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। অথচ একই সময়ে সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ তার প্রাপ্তি ছিল প্রায় ২৩ লাখ টাকা। স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ফাইল আটকে রাখা, সরকারি অনুদান ও বরাদ্দে কমিশন গ্রহণ এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ অর্জন করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন যুথিকা বিশ্বাস। তিনি বলেন, মাস্টাররোল কর্মীদের নিয়োগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দিয়েছে। এ বিষয়ে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আর বদলি ও পদায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, এই পদগুলোর বদলি ও পদায়নের বিষয়টি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ করে। তবে দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে অবস্থান এবং উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি দপ্তরে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কালীগঞ্জের স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি অফিসের এই ‘ওপেন সিক্রেট’ দুর্নীতি থামাতে অবিলম্বে যুথিকা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

office@ukantho.com


Photo

ঝিনাইদহে ভেঙে পড়া সেতুতে বন্ধ যোগাযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় পারাপার

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ও কুমড়াবাড়িয়া...

Photo

নববর্ষ উপলক্ষে তারেক রহমানের বাণী: নিঃস্বার্থ সমাধান চাইলে রক্ত ঝরবে না

এফএনএস: বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক...

Photo

রাজধানীতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস

এফএনএস: রাজধানীর চকবাজার থানাধীন পলাশী মসজিদসংলগ্ন করিম ভিলা অ্যাপার্টমেন্টের...

Photo

দেশনেত্রীর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার ঝিনাইদহবাসী

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত