মঙ্গলবার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

অন্ধ তিন সন্তান, পঙ্গু স্ত্রী, দীর্ঘ কষ্টের পর সহায়তা পেল বৃদ্ধ শামসুলের পরিবার

উচ্চকন্ঠ   08-Jun-2026   47

Photo

হাবিব ওসমান, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা শামসুল ইসলামের জীবন যেন এক দীর্ঘ সংগ্রামের নাম। চরম দারিদ্র্য, তিন অন্ধ সন্তান এবং দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করা স্ত্রীকে নিয়ে বছরের পর বছর মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। জীবনের নানা প্রতিকূলতার কাছে বারবার পরাজিত হলেও পরিবারের সদস্যদের আগলে রেখে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই বৃদ্ধ পিতা।
শামসুল ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে তিনজনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। চোখের আলো ভালো থাকায় বড় মেয়ে রোকেয়া খাতুনকে অনেক কষ্টে বিয়ে দিতে সক্ষম হন তিনি। পরে মেঝো মেয়ে রুবিনা খাতুনেরও বিয়ে হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামীর সংসার টেকেনি তার। স্বামীর অভিযোগ ছিল, রুবিনা চোখে দেখতে পান না। ফলে একসময় বাবার বাড়িতেই ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি।
বর্তমানে রুবিনা তার দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাই-বোন সেলিম ও রাশিদার সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন। চোখে দেখতে না পারলেও অনুমান ও অভ্যাসের ওপর নির্ভর করেই তারা দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাদের জীবনযুদ্ধ আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন এক সড়ক দুর্ঘটনায় শামসুল ইসলামের স্ত্রী সালেহা বেগম একটি পায়ের কার্যক্ষমতা হারান। ফলে তিন অন্ধ সন্তান ও পঙ্গু স্ত্রীকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন পরিবারের একমাত্র ভরসা শামসুল ইসলাম।
সম্প্রতি পরিবারটির করুণ জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রচারিত হলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। সংবাদটি প্রচারের পর গত বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ সরেজমিনে পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ান।
এ সময় তিনি পরিবারটিকে নগদ অর্থ সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন। পাশাপাশি তিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সন্তানের স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিরূপণে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে তাদের চোখ পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেন। এছাড়া সালেহা বেগমের চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত বৃদ্ধ শামসুল ইসলাম বলেন, জীবনে এই প্রথম কেউ আমাদের খোঁজ নিতে এসেছে। এতদিন কেউ আমাদের কষ্টের কথা জানতে চায়নি। আজ মনে হচ্ছে আমরা একা নই। আমি অনেক খুশি।
তিন সন্তানের দৃষ্টিহীনতার বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নাঈম সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিকভাবে এটি রাতকানা রোগের জটিল কোনো ধরন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাতকানা রোগের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা দিনের বেলাতেও স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন না। বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিতভাবে রোগের ধরন ও চিকিৎসা সম্পর্কে বলা সম্ভব হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দারিদ্র্যের অন্ধকারে থাকা শামসুল ইসলামের পরিবারে প্রশাসনের এই সহায়তা যেন নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতায় পরিবারটি একদিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

office@ukantho.com


Photo

জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শ্রদ্ধা

এফএনএস: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর...

Photo

ঝিনাইদহ-২ আসনের জামায়াত প্রার্থীর মতবিনিময় সভা

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২৬ জানুয়ারি জাময়াতের কেন্দ্রীয়...

Photo

তারেক রহমানের আহ্বানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন বিদ্রোহীরা

এফএনএস: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতার পরও...

Photo

কালীগঞ্জ হাসপাতালে জ্বর নিয়ে আসা রোগীদের উপচে পড়া ভিড়

শিপলু জামান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত