অপরাধ
বগুড়ায় চুরি করতে দেখে ফেলায় গৃহবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
উচ্চকন্ঠ 25-May-2026 10
এফএনএস: বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা গ্রামে রিতা মজুমদার (৫০) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। চুরি করতে ঘরে ঢোকার পড়ে চোরকে চিনে ফেলায় ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা পূর্বপাড়া গ্রামের মোকলেছের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩৫) এবং মমিনহাটা গ্রামের ফরিদের ছেলে মো. শাওন মিয়া (২০)। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ। পুলিশ সুপার জানান, গত ২০ মে রাতে রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বিধান মজুমদার খাবার শেষে আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে একটি শব্দ শুনে বিধান মজুমদারের ঘুম ভাঙে। কিছুক্ষণ পর স্ত্রীর কক্ষ থেকে চিৎকার শুনে তিনি লাঠি নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন দরজা খোলা এবং মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন রিতা মজুমদার। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত ছিল। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের নির্দেশনায় গাবতলী থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৪ মে রাতে মমিনহাটা এলাকা থেকে শাওন মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আনোয়ার হোসেনের নাম প্রকাশ করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনোয়ারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, আনোয়ার ও শাওন একসঙ্গে ধান কাটার কাজ করতেন। প্রায় ১০ দিন আগে আনোয়ার জানতে পারেন, রিতা মজুমদারদের বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা রয়েছে। এরপর তারা টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আনোয়ার স্থানীয় বাজারের একটি কামারের দোকান থেকে ৬০০ টাকায় দুটি নতুন হাসুয়া কেনেন। ঘটনার রাতে রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বাড়ির বাইরে ধান তোলার কাজে গেলে দুই আসামি গোপনে বাড়িতে ঢুকে গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে থাকেন। গভীর রাতে শাওন ভিকটিমের ঘরের দরজায় ধাক্কা দেন। শব্দ শুনে রিতা মজুমদার টর্চলাইট নিয়ে বাইরে এলে তিনি আনোয়ারকে চিনে ফেলেন। এতে ভয় পেয়ে আনোয়ার হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে তার গলায় কোপ দেন। গুরুতর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় রিতা মজুমদারের স্বামীর চিৎকার শুনে বাইরে এলে দুই আসামি পালিয়ে যান। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া দুটি একটি বিলে কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেন। পুলিশের অভিযানে সেখান থেকে হাসুয়া দুটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে, প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত নিহতের মেয়ে প্রার্থনা মজুমদার ও ছেলে বিশ্বজিৎ মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, তাদের ঘর থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি। এমনকি যে ঘরে তাদের মাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেখান থেকেও কিছু নেওয়া হয়নি। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
office@ukantho.com