প্রিয় ঝিনাইদহ
বাম্পার ফলনেও ঝিনাইদহে ধান কাটায় ধীরগতি, বৃষ্টিতে দুশ্চিন্তায় কৃষক
উচ্চকন্ঠ 10-May-2026 31
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইদহে ধানের বাম্পার ফলন হলেও বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে ধান কাটায় দেখা দিয়েছে ধীরগতি। জেলার এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার সন্ধ্যায় আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে মাঠে জমে থাকা পানি ও কাটা ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক স্থানে কাটা ধান পানিতে ভেসে যাওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম বলেন, “আমার তিন বিঘা জমির ধান কাটা রয়েছে। এর মধ্যে এক বিঘা জমির ধান পানির ওপর ভাসছে। এখন আল্লাহই ভরসা।”
একই গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, “বিষয়খালীর মাঠের ধান অনেক আগেই কাটার উপযোগী হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে অনেকে ধান কাটতে পারছেন না। আবার কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়েই কাটছেন। আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছি। চিন্তায় আছি ধান ঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারবো কিনা।”
কৃষক রনিকুল ইসলাম বলেন, “কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নিচু জমিতে পানি জমে গেছে। শ্রমিক সংকটও রয়েছে। ফলে সময়মতো ধান কাটা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
চাষি আলী আকবর জানান, “ধান ভালো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। কাটা ধান শুকাতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
হলার মালিক রাকিব হোসেন বলেন, “বৃষ্টির কারণে মাঠে মেশিন নিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে। কাদা ও পানি থাকায় অনেক জমিতে হারভেস্টার প্রবেশ করতে পারছে না।”
বৈরী আবহাওয়া ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কৃষকরা দ্রুত ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার বিভিন্ন মাঠে এখনও পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়নি। অনেক জমির ধান এখনো সম্পূর্ণ পরিপক্ব না হওয়ায় কাটার উপযোগী হয়ে ওঠেনি।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অনেক ধানক্ষেতে পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও পানির ওপর কাটা ধান ভাসতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বড়খাজুরা গ্রামের মাঠে এখন মাত্র ধান কাটা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে ধান পাকতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া কাটা ধান নিরাপদে বাড়িতে নিতে গিয়েও পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের মাটি কেটে বিক্রি করায় সেই মাটি গ্রামীণ সড়কে পড়ে রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে গেছে। ফলে ধান পরিবহনে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কাদা মাড়িয়ে ধান বহন করা অনেক ক্ষেত্রেই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-নবী বলেন, “জেলায় এবার ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে ধান কাটায় কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”
office@ukantho.com