প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে পেঁয়াজের রেকর্ড ফলন, দামে ধস, হতাশ চাষিরা
উচ্চকন্ঠ 09-May-2026 54
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ জেলায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের রেকর্ড পরিমাণ ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠ থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন শেষ করেছেন চাষিরা। উৎপাদন ভালো হওয়ায় তাদের মুখে হাসি থাকলেও বাজারে দামের ব্যাপক পতনে সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিঘা প্রতি ২০০ মনেরও বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। পেঁয়াজের আকারও বড় হয়েছে- কোথাও কোথাও ৬-৭টি পেঁয়াজেই এক কেজি ওজন হচ্ছে। গত দুই বছর পেঁয়াজ চাষে ভালো লাভ হওয়ায় এবার চাষের পরিমাণও বেড়েছে। এমনকি অনেক সরকারি চাকরিজীবীও জমি লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষে অংশ নিয়েছেন।
দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহে, বিশেষ করে শৈলকুপা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজ চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে শৈলকুপা উপজেলা হাট, নাঙ্গলবাধ হাট, শেখপাড়া হাট, গাড়াগঞ্জ হাট, মদনডাঙ্গা হাট, ভাটই হাটসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটে প্রচুর পেঁয়াজ উঠছে। হাটে পেঁয়াজ বোঝাই ভ্যানের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
তবে সরবরাহ বেশি হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। নিম্নমানের ফাটা পেঁয়াজ প্রতি মণ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা মণ দরে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এসব পেঁয়াজ কিনে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর এই সময়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। পরে দাম বেড়ে অক্টোবর মাসে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকায় পৌঁছায়। সে সময় যারা পেঁয়াজ মজুত করতে পেরেছিলেন, তারা উল্লেখযোগ্য লাভবান হন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১৪ হাজার ৪৫৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও হয়েছে ভালো। গত বছরের লাভজনক দামের প্রভাবে চাষিরা এ বছর আবাদ বাড়িয়েছেন।
মনোহরপুর গ্রামের চাষি মো. মনিরুজ্জামান জানান, তিনি ১৮ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন এবং প্রতি বিঘায় ২০০ মনের বেশি ফলন পেয়েছেন। তবে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এখন হতাশায় দিন পার কতে হচ্ছে তার।
ধলহরাচন্দ্র গ্রামের চাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি ৬ বিঘা জমিতে চাষ করে প্রতি বিঘায় ১৮০ মনের বেশি উৎপাদন পেয়েছেন। তিনি কিছু পেঁয়াজ প্রতি মণ ১০০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সরকার থেকে এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হলেও তিনি তা পাননি বলে জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “এবার জেলায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। চাষিদের পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
রেকর্ড ফলনের পরও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ঝিনাইদহের পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে এখন হতাশা বিরাজ করছে।
office@ukantho.com