প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি ক্যাম্পাস ঘিরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জোর দাবি, অবকাঠামো প্রস্তুত বলছেন সংশ্লিষ্টরা
উচ্চকন্ঠ 05-May-2026 50
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ঝিনাইদহে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান অবকাঠামো ও শিক্ষা-গবেষণার পরিবেশকে কাজে লাগালে অল্প সময়ের মধ্যেই এখানে আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।
বর্তমানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ক্যাম্পাসটি এ উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্বতন ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের এই ক্যাম্পাসের নিজস্ব আয়তন ১০.১৭ একর হলেও, সংলগ্ন সাধুহাটি বিএডিসি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র ও সাগান্না বাঁওড় অন্তর্ভুক্ত করলে এর বিস্তৃতি ২০০ একরেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি।
২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসটি ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও অত্যন্ত সুবিধাজনক। ঝিনাইদহ শহরের পাশাপাশি যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থাকায় এটি সহজেই আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
ক্যাম্পাসের আশপাশে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে সাধুহাটি বিএডিসি ফার্ম, সাগান্না বাঁওড়, সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামার, হলিধানী রেশম বোর্ড, কৃষি ইনস্টিটিউট, মৃত্তিকা ইনস্টিটিউট এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট খাতে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে, যা একটি সমন্বিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরেও রয়েছে আধুনিক ল্যাবরেটরি, একাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থীদের আবাসন, গবেষণাগার, ডেইরি, ছাগল ও পোল্ট্রি খামার, ভেটেরিনারি হাসপাতাল, অডিটোরিয়াম, খেলার মাঠ ও জিমনেশিয়াম। ফিশারিজ শিক্ষার জন্য উপযোগী জলাশয়ও রয়েছে।
ডাকবাংলা আ. রউফ ডিগ্রি কলেজের কৃষি বিভাগের এক লেকচারার বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত বা আঞ্চলিক দাবি নয়; বরং সময়ের অপরিহার্য প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি।” তিনি দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আসিফ ইকবাল কাজল বলেন, “ভেটেরিনারি কলেজকে কেন্দ্র করে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা গেলে অল্প সময়েই এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।”
ঝিনাইদহ জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এটি এখন সময়ের দাবি। বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যা এই অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু শিক্ষাখাত নয়, স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভেটেরিনারি ক্যাম্পাসকে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন ঝিনাইদহবাসী।
office@ukantho.com