শুক্রবার | ৩১ জুলাই ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

হাজার কৃষ্ণচূড়ায় বিষের ছোবল, স্বপ্ন ভেঙ্গেছে এক প্রকৃতি প্রেমিকের

উচ্চকন্ঠ   05-May-2026   52

Photo

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রাম—প্রকৃতির সবুজে ঘেরা এক শান্ত জনপদ। তবে এই গ্রামের সৌন্দর্যকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম। তিনি চেয়েছিলেন, সবুজের পাশাপাশি আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়ার ফুলে ছেয়ে যাক পুরো গ্রাম, আর লক্ষণদিয়া পরিচিত হোক ‘কৃষ্ণচূড়া গ্রাম’ হিসেবে।
ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে নিজের অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করে বছরের পর বছর ধরে গ্রামের রাস্তার ধারে, খোলা জায়গায় এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে প্রায় এক হাজার কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করেন তিনি। তার বিশ্বাস ছিল, সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হয়ে ফুলে ভরে উঠবে, আর লাল রঙে ঢেকে যাবে পুরো গ্রাম। সেই সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসবে মানুষ।
কিন্তু কিছু দুর্বৃত্তের নিষ্ঠুরতায় ভেঙে যেতে বসেছে সেই স্বপ্ন। গাছের গোড়ায় বিষাক্ত কেমিকেল প্রয়োগের ফলে একে একে মারা যায় অধিকাংশ গাছ। বর্তমানে প্রায় এক হাজার গাছের মধ্যে টিকে আছে মাত্র ৫০টির মতো, যা এখনো এলাকাজুড়ে কিছুটা সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রীষ্ম এলেই অবশিষ্ট গাছগুলোতে ফুটে ওঠা লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলে সাজে গ্রামের পথঘাট। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। অনেকেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই অনন্য সৌন্দর্য।
তবে দুঃখজনকভাবে, শুরুতে সহযোগিতা থাকলেও পরে অনেকেই গাছগুলোর প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন। কেউ ডাল ভেঙেছেন, কেউ অবহেলায় নষ্ট করেছেন, আবার কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করেছেন—ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে উদ্যোগটির বড় অংশ।
প্রকৃতিপ্রেমী আমিনুল ইসলাম বলেন, “নিজের কষ্টের টাকায় গাছগুলো লাগিয়েছিলাম। যত্ন করেছি। কিন্তু কিছু মানুষ বিষ দিয়ে সেগুলো মেরে ফেলেছে। এটা শুধু গাছ ধ্বংস নয়, একটি স্বপ্ন ধ্বংস। গাছগুলো বেঁচে থাকলে আজ আমাদের গ্রাম দেশজুড়ে ‘কৃষ্ণচূড়া গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত হতো।”
পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি সুজন বিপ্লব বলেন, “একজন মানুষের একক উদ্যোগে গড়ে ওঠা এমন পরিবেশবান্ধব প্রকল্প সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি একটি মডেল গ্রামে পরিণত হতে পারত। এটি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি করত।”
তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই যদি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল উদ্যোগটিকে গুরুত্ব দিত, তাহলে হয়তো এত বড় ক্ষতি এড়ানো যেত। এখনো যে গাছগুলো টিকে আছে, সেগুলো রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সম্মিলিত উদ্যোগ ও নজরদারি প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট গাছ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
লক্ষণদিয়ার পথে দাঁড়িয়ে থাকা অল্প কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আজও লাল হয়ে ফুটে ওঠে। তবে সেই লালের মাঝে লুকিয়ে আছে হারিয়ে যাওয়া হাজারো স্বপ্নের বেদনা। তবুও আশাবাদী আমিনুল ইসলাম। তিনি আবারও নতুন করে গাছ লাগাতে চান, আবারও স্বপ্ন দেখতে চান—একদিন হয়তো পুরো গ্রামই রাঙবে কৃষ্ণচূড়ার লালে, ফিরে পাবে তার কাঙ্ক্ষিত পরিচয়।
উল্লেখ্য, কৃষ্ণচূড়া ছাড়াও সব ধরনের গাছের প্রতিই রয়েছে আমিনুল ইসলামের গভীর অনুরাগ। নিজের বাড়িতে মা আখতার বানুর নামে একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন তিনি। সেই কেন্দ্রের চারপাশে লাগিয়েছেন বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ। গাছপালায় ঘেরা এই বাড়িটি এখন এলাকাবাসীর কাছে ‘গাছ বাড়ি’ নামে পরিচিত।

office@ukantho.com


Photo

রমজানে অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা

এফএনএস: আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নতুন অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার।...

Photo

কালীগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

হুমায়ুন কবির, নিজস্ব প্রতিবেদক: সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে...

Photo

খাগড়াছড়িতে মা-মেয়ে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

এফএনএস: জমিসংক্রান্ত ও আর্থিক বিরোধের জেরে খাগড়াছড়ির রামগড়ে পূর্ব...

Photo

কালীগঞ্জে গাইড বাণিজ্য নিয়ে তোলপাড়: অর্ধকোটি টাকার চুক্তি, ইউএনও-র কড়া হুঁশিয়ারি

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ গাইড...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত