প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে এসএসসিতে ২২৬ ছাত্রী অনুপস্থিত, বাল্যবিয়েই প্রধান কারণের আশঙ্কা
উচ্চকন্ঠ 25-Apr-2026 49
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেও ২২৬ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা আরও বেড়েছে; ২০২৫ সালে অনুপস্থিত ছিল ২১৩ জন ছাত্রী। প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিশোরীর এভাবে পরীক্ষার আগেই ঝরে পড়া এবং বিয়ের পিঁড়িতে বসার ঘটনা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মীরা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে ঝিনাইদহে এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ হাজার ৮৯৩ জন। এর মধ্যে ১৬০ জন ছাত্রী ও ৪৮ জন ছাত্র পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। দাখিল পরীক্ষায় ২ হাজার ৫৭২ জনের মধ্যে অংশ নেয় ২ হাজার ৪৩৯ জন এবং ভোকেশনাল শাখায় ১ হাজার ১১৬ জনের মধ্যে ১ হাজার ৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
সব মিলিয়ে জেলায় এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৬ হাজার ৫৮১ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৬ হাজার ২২০ জন, অনুপস্থিত ছিল ৩৬১ জন। শতাংশ হিসেবে এসএসসিতে ২ শতাংশ, দাখিলে ৫ শতাংশ এবং ভোকেশনালে ২ শতাংশ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে।
শহরের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনুপস্থিত ছাত্রীরা মূলত মফস্বলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। কাঞ্চননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার এবং ফজের আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জয়া রানী চন্দ বলেন, কেন এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাই নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন।
এদিকে, বেসরকারি সংস্থা রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি)-এর নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমান জানান, গত বছর অনুপস্থিত ছাত্রীর সংখ্যা নিয়ে অনুসন্ধানে বাল্যবিয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে। চলতি বছরও একই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “নারী শিক্ষার অগ্রগতির পথে এটি বড় বাধা। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ব্যর্থতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সি ফিরোজা সুলতানা জানান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন ও কমিটি সক্রিয় থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা গোপনে এবং স্থান পরিবর্তন করে বিয়ে দেওয়ায় তা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, গত বছর অনুপস্থিত ২১৩ জন ছাত্রীর বিষয়ে তদন্ত করে দেখা যায়, তাদের প্রায় সকলেরই বিয়ে হয়ে গেছে। এ বছরও একই কারণ প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কিশোরীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদার না করা হলে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
office@ukantho.com