অপরাধ
তনু হত্যা মামলায় নতুন মোড়, ১০ বছর পরে প্রথম গ্রেপ্তার
উচ্চকন্ঠ 22-Apr-2026 60
এফএনএস: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা এবার নতুন মোড় নিচ্ছে। ১৬ দিন আগে মামলার বিচারক তিন জনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গতকাল বুধবার ১০ বছর পরে প্রথম গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলো। গত ৬ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হলে নতুন করে সন্দেহভাজন তিন জনের ডিএনএ টেস্ট করার নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়ার পর গত ৬ এপ্রিল ওই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হন। তিনি মামলা তদন্তের বিষয়ে আদালতে লিখিত প্রতিবেদন দেন। সেদিন মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন—বিএনপি ক্ষমতায় এলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইবো। তাকে ফলাফল দেখার জন্য বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আগেই তনুর ব্যবহার করা কিছু কাপড় থেকে তিন জন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। সেগুলো পরে আর ম্যাচিং করা হয়নি। তাই আদালত বলেছেন, সন্দেহভাজন তিন জনের ডিএনএ করতে। ওই তিন জন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
office@ukantho.com