প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে শিশুদের নিউমোনিয়া-ডাইরিয়ার প্রকোপ, বেড সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা
উচ্চকন্ঠ 11-Apr-2026 61
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডাইরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। একই সঙ্গে হাম রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক শিশুকেই মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর থেকেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বমি ও ডাইরিয়ার উপসর্গ। সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে মাত্র ৪০টি, অথচ গতকাল সেখানে ভর্তি ছিল ১১৫ জন রোগী। অতিরিক্ত রোগীদের ওয়ার্ডের ভেতরেই মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এতে করে ওয়ার্ডগুলোতে তীব্র ভিড় সৃষ্টি হয়েছে। রুমের ভেতরে পা ফেলার জায়গা নেই বললেই চলে। একই স্থানে ডাইরিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি রেখে চিকিৎসা দেওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। রোগীদের সঙ্গে আসা স্বজনদের ভিড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর মা জানান, ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমে গ্রামে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে তিন দিন চিকিৎসা করানো হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার দিন পার হলেও শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
ডাইরিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর মা কমেলা বেগম বলেন, হঠাৎ করেই তার মেয়ের বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। প্রথমে গ্রামে হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। পরে হাসপাতালে ভর্তি করলে বর্তমানে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, তাদের এলাকায় আরও অনেক শিশু ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
এদিকে গ্রামাঞ্চলে হাম রোগে শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কনসালট্যান্ট ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “শীত শেষ হয়ে ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডাইরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। অনেক অভিভাবক শুরুতে বাড়িতে চিকিৎসা করান, ফলে রোগ গুরুতর হয়ে গেলে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।” তিনি শিশু অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দেন।
ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. আলি হাসান ফরিদ জানান, “এখানে ২৫টি বেড থাকলেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ৭৫ জন রোগী ভর্তি থাকছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, সম্প্রতি হাম আক্রান্ত তিন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
office@ukantho.com