প্রিয় ঝিনাইদহ
কলিযুগের লাইলি-মজনু: নানি-নাতির অবৈধ অভিসারের প্রত্যাবর্তন
উচ্চকন্ঠ 01-Apr-2026 78
আশরাফুল হক নয়ন, নিজস্ব প্রতিবেদক: বসন্তের বাতাস লাগুক আর না লাগুক ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বাবরা গ্রামের সেই বহুল আলোচিত নানি-নাতি জুটির মনে যে প্রেমের জোয়ার লেগেছে, তা আটকায় এমন সাধ্য কার। সমাজ যখন সম্পর্কের হিসাব ও বয়সের ব্যবধান মেপে কূলকিনারা পাচ্ছে না, তখন এই অসীম সাহসী যুগল প্রমাণ করে দিলেন প্রেম মানেনা কোনো বয়সের সীমানা, সম্পর্কের বেড়াজাল হোকনা তা বৈধ বা অবৈধ।
বিগত দিনে একবার থানা-পুলিশের হস্তক্ষেপে নিজ নিজ ঘরে ফিরে গিয়েও তাদের প্রেমের শখ মেটেনি। তাই তো আবারও তারা ঘরছাড়া। তবে এবার গন্তব্য ছিল পার্শ্ববর্তী উপজেলা কোটচাঁদপুর।
কিন্তু হায় রোমান্টিক এই অভিসারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল বেরসিক জনতা।
জনৈক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, তাদের এই অশ্লিল অভিসার দেখে কোটচাদপুরের বাতাসও যেন খানিকটা লজ্জিত হয়ে পড়েছিল। সমাজ বলছে নাতির বয়স ২১, আর নানি ৩৫ (সঠিক ব্যবধান আরো বেশি হতে পারে)। গণিতবিদরা হিসেব মেলাতে গিয়ে খাতা ছিঁড়ছেন, আর প্রতিবেশীরা চায়ের কাপে তুফান তুলছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তো রীতিমতো ডিজিটাল মহাপ্রলয় শুরু হয়েছে। একেই কি বলে ডিজিটাল বাংলাদেশের এনালগ প্রেম?
এলাকাবাসী এখন হাতজোড় করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চাইছেন। তাদের প্রশ্ন, এই প্রেমকাব্য আর কতবার রিলিজ হবে। নানি-নাতির এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া দেখতে দেখতে পাড়ার কাক-পক্ষীরাও নাকি এখন ক্লান্ত।
পৃথিবীতে কত বিচিত্র প্রেমই না ঘটে। কেউ মজনু হয়ে বনে যায় আর কেউ নানিকে নিয়ে কোটচাঁদপুর যায়। তফাৎ শুধু এটুকুই—লাইলি-মজনু ইতিহাসে অমর হয়েছিলেন, আর এরা হচ্ছেন ভাইরাল।
গল্পের শুরুটা দীর্ঘদিন পূর্বে হলেও জনসমক্ষে আসে প্রায় ৪-৫ মাস আগে। তখন তাঁরা প্রথমবার ঘর ছেড়েছিলেন অজানার উদ্দেশ্যে। শোনা গিয়েছিল, তাঁরা নাকি সমাজ-সংসারের মায়া কাটিয়ে বিয়েও সেরে ফেলেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস বেরসিক থানা-পুলিশ তখন তাঁদের ধরে এনে বড়ই নির্দয়ভাবে নিজ নিজ পরিবারের হাতে সোপর্দ করেছিল।
সবাই ভেবেছিল, এই বুঝি প্রেমের প্রদীপ নিভে গেল, কিন্তু হায় মানুষ কি জানত, ছাইচাপা আগুনের মতো এই প্রেম আবারও জ্বলে উঠবে।
office@ukantho.com