সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের কারিগরদের নিয়ে ব্যতিক্রমী সমাবেশ
উচ্চকন্ঠ 31-Dec-2024 42
গাছিদের হাতে ঠুঙ্গি ও কম্বল উপহার দিচ্ছেন অতিথিবৃন্দ।
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ খেজুর গুড় ঝিনাইদহ তথা দক্ষিণাঞ্চলের একটি অন্যতম ঐতিহ্য। শীত এলেই খেজুর রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এ অঞ্চলের গাছিরা। মূলত তারাই খেজুর গুড় তৈরির প্রধান কারিগর। তা সত্ত্বেও গাছিরা চিরকালই থেকে গেছেন অবহেলিত। এসকল গাছিদের সম্মানিত করতে এবং নির্ভেজাল গুড় উৎপাদনে উৎসাহিত ও সচেতন করতে নেওয়া হয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের দৌলতপুর ডি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৩০ ডিসেম্বর কাজী আব্দুল ওয়াহেদ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক গাছি সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ইউপি সদস্য শাজাহান মোল্ল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি, কোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক খাইরুল হক, মৎস্য কর্মকর্তা হাসান সাজ্জাদ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মামুনুর রশিদ, উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সত্যজিৎ বিশ্বাস প্রমুখ। গাছি সমাবেশ সঞ্চালনা করেন কাজী আব্দুল ওয়াহেদ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক কাজী এমদাদুল হক এমদাদ। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী ৭০ জন গাছিকে কম্বল এবং ঠুঙ্গী উপহার দেওয়া হয়। এসময় সেরা পাঁচ জন গাছির হাতে উপহার হিসাবে “গাছিদা” তুলে দেন প্রধান অতিথি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জনা যায় যে, উপজেলায় ১১ হাজার ৯শ টি রস আহরণযোগ্য খেজুর গাছ থাকলেও রস আহরণ করা হয় মাত্র ১০ হাজার ৮২৫টি গাছ থেকে। এছাড়াও আরো ২৬২৫ টি গাছ এখনো রস আহরণের উপযোগী হয়নি। এসব গাছ থেকে বছর খেজুরগুড় উৎপাদন হয় ২৯.৫ মেটিক টন। উপজেলায় মোট ১ হাজার ১৫ জন উপকারভোগী গাছি আছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।
গাছি হাফিজুর রহমান বলেন যে, তিনি বেশ কিছু খেজুর গাছের মালিক। এমদাদ স্যারের পরামর্শে তিনি আরো ১০০টি খেজুরের চারা রোপন করেছেন । সৎ থেকে খেজুরের গুড় উৎপাদন করলে এলাকার সুনাম অক্ষুন্ন থাকবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, এ অঞ্চলের ঐতিহ্য খেজুরের গুড়। বাংলাদেশ খেজুর গুড়ের জন্য এ অঞ্চলের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাই আমরা নিরাপদ গুড় উৎপাদন করব। তাছাড়া আমরা গাছিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।
কাজী এমদাদ বলেন, আমরা এলাকার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভেজালমুক্ত খেজুর গুড় উৎপাদনে গাছিদের উৎসাহ দানে ৫ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। কৃষি কর্মকর্তা এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছেন।
প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, অনেক আগে থেকেই এ অঞ্চল খেজুর গুড়ের জন্য বিখ্যাত। আমরা উন্নত জাতের খেজুর চারা এনে এখানকার গাছিদের দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেবো যাতে কালীগঞ্জের খেজুর গুড়ের খ্যাতি অক্ষুন্ন থাকে। পরিশেষে চমৎকার এ আয়োজনের জন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।
office@ukantho.com