জাতীয়
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি: জ্বালানিতে সর্বোচ্চ মনোযোগের তাগিদ
উচ্চকন্ঠ 04-Mar-2026 46
এফএনএস: নতুন সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে এনার্জি বা জ্বালানিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। তারা বলেছেন, কারখানা প্রতিষ্ঠা করলেও বিদ্যুৎ-গ্যাসের অভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। একইসঙ্গে শিল্পকারখানা বান্ধব ব্যাংকনীতি গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। বুধবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন-এ ‘সিপিডি-ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট প্রায়োরিটিজ ফর দ্য নিউলি ইলেকটেড গভর্নমেন্ট: দ্য শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন। সংলাপে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, নতুন সরকার ১৮০ দিনের করণীয় নির্ধারণ করে কাজ করছে। এই ১৮০ দিনের কাজে নতুন বিনিয়োগে মনোযোগ না দিয়ে বর্তমান উৎপাদন ইউনিটগুলো সচল করার উদ্যোগ নিতে হবে। ৩০০ তৈরি পোশাক ও ৫০টি টেক্সটাইল কারখানা বন্ধ হয়েছে ব্যাংকের কারণে। তিনি বলেন, বায়ারদের কাছ থেকে কার্যাদেশ আনার পর যখন ব্যাংক টু ব্যাংক এলসি খোলার প্রয়োজন হয়, তখন ব্যাংকগুলো টাকা দিতে পারে না। তখন এসব কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাংকগুলো খাতা পরিষ্কার করার জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করছে। কিন্তু ঋণ দিতে পারছে না। দুইশ কোটি টাকা বিনিয়োগের একেকটি টেক্সটাইল কারখানা ব্যাংকের নীতিগত সমস্যার কারণে বন্ধ হচ্ছে জানিয়ে তিনি নতুন সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে এসব বিষয়কে আনার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, শুধু খেলাপি উদ্যোক্তাদের ঋণ পুনঃতফসিল করলেই চলবে না, কারখানাগুলোকে সচল করার জন্যও ঋণ দিতে হবে, যাতে কারখানাগুলো আবার চালু করতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে এনার্জিতে বিনিয়োগে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাস্তা-ঘাট, পুলের কাজ হয়েছে। এখন এনার্জির অভাবে উৎপাদন করা যাচ্ছে না, নতুন বিনিয়োগ করা হচ্ছে না। কারখানা প্রতিষ্ঠা করে বিদ্যুৎ-গ্যাসের অভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। শিল্পনীতিতে সরকারের দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্রেড কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান। তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তা কারখানা করে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের আবেদন করে১০ মাস ঘুরে লাইসেন্স পান দুই মাসের জন্য। দুই মাস পর আবার নবায়নের জন্য দৌড়াতে হয়। এভাবে নিয়মের পেছনে দৌড়াতে গিয়ে শিল্পের জন্য কাজ করতে পারেন না। সরকারের ১৮০ দিনের কাজের মধ্যে সরকারকে এ বিষয়গুলোতে দৃষ্টি দিতে হবে।
office@ukantho.com